খসড়া জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ দেশে মুক্তগণমাধ‍্যম বিকাশে জনপ্রত‍্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস: টিআইবি

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ঢাকা, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশে মুক্তগণমাধ‍্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশে একটি অভিন্ন স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশনের দাবি দীর্ঘদিনের, যার প্রতিফলন ছিলো গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও। কিন্তু প্রতিবেদন হস্তান্তরের দীর্ঘ দশমাসের অধিক সময় ধরে এর সুপারিশ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ নির্বিকার থাকা অন্তর্বর্তী সরকার তার মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসে কমিশনের নামে দুটি নতুন সরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ শীর্ষক যে দুটি খসড়া প্রকাশ করেছে, তার প্রতি গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। জনপ্রত‍্যাশা ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিপরীতে গিয়ে উদ‍্যেশ‍্যমূলকভাবে এ খাতের অধিকতর নিয়ন্ত্রণের জন‍্য খসড়া দুটি প্রণয়ন করা এবং মাত্র তিন দিন সময় দিয়ে মতামত চাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস বলে মনে করে টিআইবি। একইসঙ্গে, শুরু থেকে প্রায় সকলক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরবচ্ছিন্ন গোপনীয়তার চর্চা ও রাষ্ট্রসংস্কারের নামে সরকারের একাংশের সংস্কার পরিপন্থী অন্তর্ঘাতমূলক অপতৎপরতার উদাহরণ হিসেবেও এটিকে উল্লেখ করছে সংস্থাটি।

আজ এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘উভয় ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কমিশনের গঠন ও ষ্ট‍্যাটাস, কমিশনারদের পদমর্যাদা ও কর্মক্ষমতা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব‍্যবস্থাপনাসহ সকল ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সরকারি, বিশেষকরে আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্বাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে । যা মুক্তগণমাধ‍্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের প্রত‍্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের পরিহাসমূলক আচরণের দৃষ্টান্ত। বিষয়টি হতাশাজনক হলেও আমরা মোটেও অবাক হচ্ছি না, কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, সহিংস কর্মকাণ্ড এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপপ্রয়াস নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব‍্যর্থতা, এমনকি অনেকক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনদাতার ভূমিকা দৃশ্যমান ছিলো। মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে প্রস্তাবিত খসড়া দুটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রত্যাশার প্রতি সরকারের একই রকম প্রতিপক্ষমূলক আচরণের প্রতিফলন ঘটলো।’

বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ও সম্প্রচার মাধ্যমসংক্রান্ত অনুরূপ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অনুপস্থিতিতে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি অভিন্ন স্বাধীন ‘‘গণমাধ্যম কমিশন’’ গঠনের যে সুপারিশ করেছে, সরকার সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেখায়নি উল্লেখ করে ড. জামান পারষ্পরিক সম্পর্কযুক্ত গণমাধ্যম ও সম্প্রচার মাধ্যমের ওপর দুটি নতুন নিয়ন্ত্রণমূলক সরকারি প্রতিষ্ঠান গঠনের অপরিনামদর্শী উদ্যোগের পরিবর্তে সরকারি কর্তৃত্বের বাইরে একটি অভিন্ন স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রস্তাব করছেন।

উল্লিখিত খসড়া দুটিকে তড়িঘড়ি করে অধ‍্যাদেশে প্রনীত না করার জন‍্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে টিআইবি। একইসঙ্গে, আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহ, যাদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশে মুক্তগণমাধ‍্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার মাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণের শিকার ও ভুক্তভোগী হয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারণায় জোড়ালো অঙ্গীকার করছেন, তাদের প্রতি টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের আহ্বান ও প্রত‍্যাশা, নতুন সংসদ গঠনের পর অনতিবিলম্বে এক্ষেত্রে নিজস্ব অভিজ্ঞতা, অঙ্গীকার ও জনপ্রত‍্যাশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবেন, এবং একটি প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অভিন্ন গনমাধ্যম কমিশন গঠন করবেন। যা সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করে দেশে মুক্তগনমাধ‍্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

গণমাধ্যম যোগাযোগ:
মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম
পরিচালক, আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন
মোবাইল: ০১৭১৩-১০৭৮৬৮
ই-মেইল: tauhidul@ti-bangladesh.org

Read in English

Draft National Media Commission and Broadcasting Commission Ordinances a Parting Mockery of Public Expectations for Free Media Development: TIB


Press Release