প্রকাশকাল: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
“কখনো কি এমন হয়, কোনো জিনিস নিয়ে ভাবার কিছুক্ষণ পরেই সেই জিনিসের বিজ্ঞাপন চলে আসে স্মার্টফোনে? মনে হয় যেন এআই আমার মনের কথাই পড়ে ফেলেছে।" প্রশিক্ষণকক্ষে বসে একজন সাংবাদিক এই কথা বলতেই হেসে উঠলেন সবাই। এমন অভিজ্ঞতা আসলে প্রায় সবারই আছে, শুধু এর পেছনের কারণটা অনেকের কাছে অজানা।
নথি ঘাঁটাঘাঁটি করা আর দুর্লভ তথ্যের পেছনে ছোটা যাদের কাজ, তাদের কাছে ডেটা বিশ্লেষণের জগৎটা প্রায়ই জটিল ঠেকে। অথচ টিআইবির আউটরিচ ও কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের ব্যাখ্যায় বিষয়টা দাঁড়াল একেবারে সহজভাবে। এআই কোনো জাদু নয়। আমরা প্রতিদিন যা করি, যা খুঁজি, যেভাবে ক্লিক করি, এসব থেকেই তৈরি হয় একটা প্যাটার্ন। আর সেই প্যাটার্ন এতটাই নির্ভুল যে অনেক সময় আমাদের চিন্তাভাবনাও আগে থেকে বলে দিতে পারে, বিজ্ঞাপন সামনে চলে আসাটা তারই একটা ছোট উদাহরণ মাত্র। আমাদের কাজও তো আসলে তথ্যের সঙ্গেই, আর যেকোনো তথ্যই কোনো না কোনো প্যাটার্নের জন্ম দেয়। সাংবাদিকরাও চাইলে এই একইভাবে দুর্নীতির জটিল সূত্রও খুঁজে বের করতে পারেন।
এই সূত্র খুঁজে বের করায় সহযোগিতা করতে গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের ৪১ জন সাঙ্গবাদিকের জন্য টিআইবি আয়োজন করে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত তথ্য ও স্বচ্ছতা নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ । জটিল ক্রয়সংক্রান্ত তথ্যকে সহজবোধ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রূপ দেওয়ার কৌশল, রাজনৈতিক সংযোগ চেনা, যোগসাজশের লক্ষণ ধরা এবং প্রতিযোগিতাহীন দরপত্র চিহ্নিত করার বিষয়গুলো প্রশিক্ষনে আলচনা হয়।
তৌহিদুল ইসলাম তার সেশনে যোগ করেন, দুর্নীতি খুঁজে বের করার তথ্য আসলে সামনেই থাকে। প্রয়োজন শুধু সঠিক জায়গায় খোঁজার দক্ষতা। ওপেন ডেটা আসলে এমন এক সম্পদ, যা সবার জন্যই উন্মুক্ত, শুধু কেউ কেউ জানেন কীভাবে সেটাকে কাজে লাগাতে হয়। বিশ্বের প্রথম সারির ডেটা সাংবাদিকরা কীভাবে এই উন্মুক্ত তথ্য কাজে লাগান, কোন ওয়েবসাইট বা পোর্টাল ঘেঁটে তারা বড় বড় প্রতিবেদন দাঁড় করান, তা নিয়ে দেখানো হয় সেশনে। তৌহিদুল ইসলাম বলে, জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রতিদিন খবর হয়, কিন্তু বেশিরভাগ প্রতিবেদনই গড়পড়তা দাম বাড়ল কি কমল তার বাইরে খুব কমই যায়। ছড়িয়ে থাকা তথ্য গুছিয়ে বিশ্লেষণ করলে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আসল গল্পে পৌঁছানো সম্ভব। একটা সরকারি ওয়েবসাইটে পড়ে থাকা শত শত পাতার তথ্যও যদি ঠিকভাবে ফিল্টার করা যায়, তাহলে সেখান থেকেই বেরিয়ে আসতে পারে বছরের সেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটা।
এরপর তত্ত্ব থেকে হাতে-কলমে কাজের পালা। খাতা কলমের তত্ত্ব কাজে লাগানোর সময় এলো যখন টিআইবির ডেটা ভিজুয়ালাইজেশন সহকারী সমন্বয়কারী রিফাত রহমান সামনে নিয়ে এলেন বাস্তব উদাহরণ ও কিছু ইন্টার্যাক্টিভ ড্যাশবোর্ড। হাজারো এলোমেলো সংখ্যা বা তথ্য কীভাবে ধাপে ধাপে পরিষ্কার হয়ে একটা চোখে দেখা প্রমাণে বদলে যায়, তা তিনি দেখান একদম হাতে ধরে। একটা এক্সেল শিটে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার সারি সংখ্যা যে আসলে একটা গল্প বলছে, সেটা বোঝাতে তিনি সরাসরি স্ক্রিনেই কয়েকটা ক্লিকে দেখিয়ে দিলেন কীভাবে একটা জেলার বছরের পর বছরের ক্রয় ব্যয় হঠাৎ অস্বাভাবিক লাফ দেয়, যা খালি চোখে ধরাই পড়ত না।
একই সূত্র ধরে প্রশিক্ষণ আগায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে। প্রতিদিনের কাজে এআই ব্যবহারে সবাই কমবেশি অভ্যস্ত, চ্যাটজিপিটি বা এই ধরনের টুল দিয়ে টুকটাক লেখালেখির কাজ অনেকেই সারেন। তবে এর সক্ষমতা যে আরও অনেক দূর যায়, তা দেখান টিআইবির আরেক ডেটা ভিজুয়ালাইজেশন সহকারী সমন্বয়কারী কে এম রফিকুল আলম। তিনি দেখান, প্রশ্ন করাটাও আসলে একটা শিল্প, যাকে বলে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং। ভুল প্রশ্নে ভুল উত্তর আসে, কিন্তু সঠিকভাবে সাজানো একটা প্রশ্নই এআইকে দিয়ে করিয়ে নিতে পারে ঘণ্টার পর ঘণ্টার কাজ। সঠিকভাবে প্রশ্ন সাজানো আর স্বয়ংক্রিয় তথ্য বিশ্লেষণের কৌশল শিখিয়ে তিনি দেখান, পাহাড়সমান জটিল ক্রয়সংক্রান্ত নথির থেকেও এআই দিয়ে মুহূর্তেই কার্যকর সূত্র বের করে আনা যায় । শত পাতার একটা টেন্ডার ডকুমেন্ট যেখানে পড়তেই লাগে সারাদিন, সেখান থেকে ঠিকভাবে এআই ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ অংশটুকু বের করে আনা যায় মাত্র কয়েক মিনিটে।
এআই যখন কয়েক মিনিটে করে দিচ্ছে ঘণ্টার কাজ, তখন প্রশ্ন ওঠে, এই সব দক্ষতা আসলে কোথায় গিয়ে কাজে লাগবে। এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আসল শক্তি বিচ্ছিন্ন কোনো অনিয়ম খুঁজে পাওয়ায় নয়, বরং সেসব সূত্রকে জোড়া লাগিয়ে পুরো ব্যবস্থার অস্বচ্ছতা উন্মোচনে। প্রাতিষ্ঠানিক বাধা আর জটিল ব্যয়কাঠামোর মুখোমুখি হওয়া সাংবাদিকদের জন্য তথ্য ও ডিজিটাল দক্ষতা এখন ঐচ্ছিক কিছু নয়, বরং জবাবদিহিতা আদায়ের প্রধান হাতিয়ার।
দিনের শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, প্রযুক্তিগত এই দক্ষতা রপ্ত করতে আরো ছোট দলে দীর্ঘমেয়াদি ও নিয়মিত সহায়তা দরকার। টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ড. সুমাইয়া খায়ের তাদের শেখার এই আগ্রহকেই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রকৃত চালিকাশক্তি বলে অভিহিত করেন এবং প্রতিটি ধাপে টিআইবির পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পুরো কর্মশালা জুড়ে প্রশিক্ষনে সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ছিলেন টিআইবির আউটরিচ ও কমিউনিকেশন সমন্বয়কারী শাহরীন হক এবং সহকারী সমন্বয়কারী সাইমুম মৌসুমী বৃষ্টি। উপ-সমন্বয়ক জাফর সাদিকের সঞ্চালনায় সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আসল শক্তি বিচ্ছিন্ন কোনো অনিয়ম খুঁজে বের করায় নয়, বরং সেই টুকরো তথ্যগুলোকে জোড়া লাগিয়ে পুরো ব্যবস্থার অস্বচ্ছতা উন্মোচনে। প্রাতিষ্ঠানিক বাধা আর জটিল ব্যয়কাঠামোর মুখোমুখি হওয়া সাংবাদিকদের জন্য তথ্য ও ডিজিটাল দক্ষতা এখন আর বিকল্প নয়, বরং জবাবদিহিতা নিশ্চিতের প্রধান হাতিয়ার।
দিনের শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও জানান, প্রযুক্তিগত এই দক্ষতা রপ্ত করতে ছোট দলে দীর্ঘমেয়াদি ও নিয়মিত সহায়তা দরকার। তাদের এই আগ্রহ মনোযোগ দিয়ে শোনেন টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ড. সুমাইয়া খায়ের। শেখার এই আগ্রহকেই তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রকৃত চালিকাশক্তি বলে অভিহিত করেন এবং প্রতিটি ধাপে টিআইবির পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পুরো কর্মশালা জুড়ে প্রশিক্ষনে সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ছিলেন টিআইবির আউটরিচ ও কমিউনিকেশন সমন্বয়কারী শাহরীন হক এবং সহকারী সমন্বয়কারী সাইমুম মৌসুমী বৃষ্টি। উপ-সমন্বয়ক জাফর সাদিকের সঞ্চালনায় সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
সারাদিন গোপন নথি খুঁজে বেড়ানো এবং সহজে পাওয়া যায় না এমন রেকর্ডপত্রের পেছনে ছোটাছুটি করে দিন কাটান, তাদের কাছে ডিজিটাল দুনিয়া প্রায়শই এক জাদুকরী ও গোলকধাঁধাময় অভিজ্ঞতার মতো ঠেকে। কিন্তু টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডিরেক্টর মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম যখন ডেটা, পরিসংখ্যান ও তথ্য বোঝার ওপর একটি সেশন পরিচালনা করতে সামনে আসেন, তখন তিনি এক স্বস্তিদায়ক স্বচ্ছতা নিয়ে আসেন। তিনি বুঝিয়ে দেন যে এটি মোটেও কোনো জাদু নয়, বরং কেবল তথ্য বিশ্লেষণের শক্তি। আমরা ডিজিটাল মাধ্যমে যা কিছু করি, তার প্রতিটি পছন্দ একগুচ্ছ প্যাটার্নের চিহ্ন রেখে যায় যা ডিকোড করার অপেক্ষায় থাকে। অ্যালগরিদম যেমন আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসগুলোকে সাজিয়ে নেয়, ঠিক তেমনি সংবাদকর্মীরা দুর্নীতির জটিল জাল ভেদ করতে এবং গোপনীয় পাবলিক অনিয়মগুলো উন্মোচন করতে অবিকল সেই একই হাতিয়ার ব্যবহার করতে পারেন। কাঁচা এবং অবিন্যস্ত তথ্যকে সত্যিই একটি স্পষ্ট গল্পে রূপ দেওয়া সম্ভব যা সত্যকে সামনে নিয়ে আসে, যা কার্যকরভাবে সংবাদকর্মীদের দুর্নীতির ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্যাটার্ন খুঁজে বের করতে সাহায্য করে।
ডেটা-নির্ভর সাংবাদিকতা যে স্বচ্ছতাকে একটি বিমূর্ত নীতি থেকে জবাবদিহিতার একটি বাস্তব হাতিয়ারে রূপান্তর করে, তা উপলব্ধি করে টিআইবি ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম অব বাংলাদেশের (ডিজেএফবি) সাথে অংশীদারিত্ব করে এবং "পাবলিক প্রকিউরমেন্টে উন্মুক্ত ডেটা ও স্বচ্ছতা" শিরোনামে দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ আয়োজন করে। প্রধান গণমাধ্যমগুলোর একচল্লিশ জন উন্নয়ন বিট রিপোর্টারকে জটিল প্রকিউরমেন্ট ডেটাকে নাগরিক-বান্ধব অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রূপান্তর করার ব্যবহারিক দক্ষতা প্রদান করা হয়। সংবাদকর্মীরা ডেটা ড্যাশবোর্ড বিশ্লেষণ এবং এক্সট্রাকশনের কৌশলগুলো শিখলেন, যা সাধারণত বিশ্লেষণাত্মক টুল ছাড়া অদৃশ্য থাকা দুর্নীতির লুকানো নির্দেশকগুলোকে উন্মোচন করে। প্রশিক্ষণটিতে প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ায় কীভাবে "রেড ফ্লাগ" বা ঝুঁকির লক্ষণগুলো শনাক্ত করতে হয় তা দেখানো হয়, যার মধ্যে রাজনৈতিক সংযোগ চেনা, যোগসাজশের প্যাটার্ন শনাক্ত করা এবং সরকারি চুক্তির চারপাশের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করার কৌশল অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংবাদকর্মীরা অনিয়মের ইঙ্গিতবাহী প্যাটার্নগুলো ট্র্যাক করার এবং প্রকিউরমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে করদাতার অর্থ কীভাবে প্রবাহিত হয় তা অনুসরণ করার জ্ঞান অর্জন করেন।
তথ্যের স্তূপে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতি খুঁজে বের করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম আবারও ফ্লোরে ফিরে আসেন এবং দেখান যে, দুর্নীতি উন্মোচন করার জন্য যে ডেটা প্রয়োজন তা কেবল কোথায় খুঁজতে হবে তা জানলেই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে! পাবলিক প্রকিউরমেন্টের মধ্যে ওপেন-সোর্স ডেটা কীভাবে কাজ করে তা অন্বেষণ করার মাধ্যমে, সেশনটি সংবাদকর্মীদের বিশ্বব্যাপী প্রধান ডেটা সাংবাদিকরা যা ব্যবহার করেন তা পরীক্ষা করার পাশাপাশি অনুসন্ধানী রিপোর্টিংয়ের জন্য উন্মুক্ত ডেটা কীভাবে নেভিগেট করতে হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। বর্তমান জ্বালানি সংকট দ্রুত খবরের শিরোনাম তৈরি করে, তবে অনেক প্রতিবেদনে পর্যাপ্ত গভীরতার অভাব থাকে। বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সাজাতে শিখে, গোলমাল ফিল্টার করে এবং সঠিকভাবে পাবলিক ডেটা রক্ষণাবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে, সংবাদকর্মীরা উপরিভাগের ঘোষণগুলোর বাইরে তাকাতে পারেন, বিক্ষিপ্ত রেকর্ডে হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি থেকে মুক্ত হতে পারেন এবং অবিন্যস্ত ডেটাকে আসল অনুসন্ধানী গল্পে রূপ দিতে পারেন যা লুকানো দুর্নীতি উন্মোচন করে।
কাঁচা সংখ্যা থেকে জোরালো প্রমাণের দিকে যাত্রার এই পথটি ধাপে ধাপে উন্মোচিত হয় যখন সেশনগুলো ব্যবহারিক প্রয়োগের দিকে মোড় নেয়। টিআইবির ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশনের সহকারী সমন্বয়ক রিফাত রহমান দেখিয়েছেন কীভাবে বিমূর্ত ডাটাবেসগুলোকে বাস্তব অনুসন্ধানী লিডের সাথে সংযুক্ত করতে হয়। বাস্তব বিশ্বের কেস উদাহরণ এবং ইন্টারেক্টিভ ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে তিনি সংবাদকর্মীদের দেখিয়েছেন কীভাবে হাজার হাজার অবিন্যস্ত এবং বিপুল ডেটা পয়েন্টগুলোকে পরিষ্কার, এক্সট্র্যাক্ট এবং স্পষ্ট ভিজ্যুয়াল প্রমাণে রূপান্তরিত করা যেতে পারে যা পৃষ্ঠের নিচে লুকানো বিষয়গুলো উন্মোচন করে।
সেই ভিজ্যুয়াল ড্যাশবোর্ড এবং পরিষ্কার করা ডাটাবেসগুলোর ওপর সরাসরি ভিত্তি করে, একবার প্যাটার্নগুলো দৃশ্যমানভাবে ম্যাপ হয়ে গেলে, পরবর্তী যৌক্তিক পদক্ষেপ হলো অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাকে ভারী কাজটি পরিচালনা করতে দেওয়া। আলোচনাটি স্বাভাবিকভাবেই সেই ডিজিটাল টুলগুলোর দিকে মোড় নেয় যা সংবাদকর্মীরা ইতিমধ্যেই প্রতিদিন ব্যবহার করেন। কক্ষের সবাই যখন মৌলিক দৈনন্দিন কাজের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিলেন, তখন সেশনটি প্রকাশ করে যে সেই ক্ষমতাগুলো কত দূর পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে। টিআইবির ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশনের সহকারী সমন্বয়ক কে. এম. রাফিকুল আলম সংবাদকর্মীদের উপরিভাগের প্রশ্নগুলোর বাইরে উন্নত প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং স্বয়ংক্রিয় ডেটা ডিকোডিংয়ের দিকে পরিচালিত করেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে গভীর বিশ্লেষণাত্মক কাজের জন্য এই প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করা যায় এবং শেয়ার করেছেন কীভাবে এআই অবলীলায় জটিল পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেকর্ডগুলো প্রক্রিয়া করতে পারে, কাগজের স্তূপকে স্পষ্ট, কার্যকরী লিডে রূপান্তরিত করতে পারে এবং লুকানো দুর্নীতি উন্মোচন করা অনেক সহজ করে তুলতে পারে।
এই অনুসন্ধানী যাত্রাকে আরও সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ফোকাসে নিয়ে এসে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সংবাদকর্মীদের সামনে একটি জোরালো আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আসল শক্তি কেবল বিচ্ছিন্ন অনিয়ম উন্মোচন করার মধ্যেই নয়, বরং কাঠামোগত অস্বচ্ছতা ভেঙে ফেলার জন্য বিন্দুগুলোকে সংযুক্ত করার মধ্যে নিহিত রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ এবং পাবলিক ব্যয়ের জটিল জালের মুখোমুখি হওয়া সংবাদকর্মীদের জন্য ডেটা এবং ডিজিটাল টুল আয়ত্ত করা আর ঐচ্ছিক কিছু নয়; এটি জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতার চূড়ান্ত ঢাল ও তলোয়ার।
দিনটি যখন শেষের দিকে গড়ায়, তখন অংশগ্রহণকারীরা জানান যে তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত এবং কারিগরি টুলগুলো পরিচালনা করার জন্য চলমান সহায়তা সহ দীর্ঘ বা ছোট দলীয় ফর্ম্যাটের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। প্রতিটি শেয়ার করা অভিজ্ঞতা মনোযোগ সহকারে শুনে, টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনার উপদেষ্ট ড. সুমাইয়া খায়র উষ্ণ উৎসাহের সাথে কক্ষের প্রযুক্তিগত বাধাগুলো দূর করতে এগিয়ে আসেন। তীব্র শেখার বক্ররেখাকে একটি বোঝা হিসেবে দেখার পরিবর্তে, তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রকৃত ইঞ্জিন হিসেবে জানার তাদের তীব্র ক্ষুধাকে উদযাপন করেন। ড. খায়র সংবাদকর্মীদের প্রতিশ্রুতি দেন যে টিআইবি সর্বতোভাবে তাদের পাশে থাকবে। পুরো কর্মশালা জুড়ে টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন কোঅর্ডিনেটর শাহরীন হক এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট কোঅর্ডিনেটর সিমুম মৌসুমী বৃষ্টি অংশগ্রহণকারীদের সহায়তা করার জন্য সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন। আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ডেপুটি কোঅর্ডিনেটর জাফর সাদীকের উপস্থাপনায় একটি সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি সমাপ্ত হয়, যা সংবাদকর্মীদের উন্নত ডেটা দক্ষতার সাথে পুরোপুরি সজ্জিত করে এবং পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সত্য উন্মোচন করতে প্রস্তুত করে তাদের নিজ নিজ নিউজরুমে ফিরিয়ে দেয়।