বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৫

সাহসী নতুন বাংলাদেশ: গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সংস্কার রূপরেখা

প্রকাশকাল: ০৩ মে ২০২৫

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৯৩ সালে ৩ মে-কে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। বিশ্বব্যাপী মুক্ত গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে এগিয়ে নেওয়ার পথে এটি ছিল এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এরপর থেকে স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রসার এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহকে সহজ করে দেওয়া ডিজিটাল প্রযুক্তির উত্থানের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। গত তিন দশকে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক কাঠামোর অগ্রগতি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাংবাদিক ও সংবাদ সংস্থাগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জগুলো আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকি, হয়রানি, সেন্সরশিপ ও সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিসরকে সংকুচিত করে দিচ্ছে। সাংবাদিকদের শারীরিক, ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি। বিশ্বব্যাপী ২০২৫ সালের বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের মূল ভাবনাজুড়ে রয়েছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব। একই সঙ্গে, ইউনেসকোর সাধারণ সম্মেলনে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত উইন্ডহোক+৩০ ঘোষণার (২০২১) মূল প্রতিপাদ্য ‘তথ্য একটি জনসম্পদ’ (Information as a Public Good)-এর প্রাসঙ্গিকতাও এবারের আয়োজনে পুনর্বিবেচনা করা হবে।

এ বছর দিবসটি পালিত হবে একটি বিশেষ উদ্বোধনী অধিবেশনের মাধ্যমে। এরপর ‘সাহসী নতুন বাংলাদেশ: গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সংস্কার রূপরেখা’ (Brave New Bangladesh: Reform Roadmap for Press Freedom) শীর্ষক একটি আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজন গণমাধ্যমের সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, একটি মুক্ত, স্বাধীন, পেশাদার ও বৈচিত্র্যময় গণমাধ্যম পরিবেশ তৈরি এবং গণমাধ্যম সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার একটি প্ল্যাটফর্ম দেবে। এই ভাবনা থেকেই ইউনেসকো ঢাকা অফিস তার সহযোগী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সুইডেন দূতাবাসের সঙ্গে যৌথভাবে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৫ সালের বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করবে। এই অধিবেশনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়নের মধ্যেকার পারস্পরিক সম্পর্ক অন্বেষণ করা হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের সংস্কার, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং গণমাধ্যম খাতের সহনশীলতা ও স্বাধীনতা শক্তিশালী করার কৌশল নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে।

এই আয়োজনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাপন্থী বিভিন্ন পক্ষ এবং মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোকে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। এই সম্মিলিত আয়োজনের মাধ্যমে আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি এবং সেই সব সাংবাদিকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, যাঁরা প্রায়ই চরম ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মৌলিক নীতিগুলো সমুন্নত রেখে চলেছেন।

পূর্ণাঙ্গ ধারণাপত্রের জন্য ক্লিক করুন এখানে

সংস্কার রূপরেখা

সাহসী নতুন বাংলাদেশ: গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সংস্কার রূপরেখা


অন্যান্য ধারণাপত্র