ভাষা শহীদদের প্রতি টিআইবির বিনম্র শ্রদ্ধা: একুশের চেতনায় দুর্নীতিমুক্ত সমাজের অঙ্গীকার

প্রকাশকাল: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। ভোরের আলো ফোটার আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা লোকে লোকারণ্য। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে‍সাদা-কালো পোশাক আর হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে হাজারো মানুষের ভিড়। প্রতি বছরের মতো এবারও ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের এই ভিড়ে সামিল হয় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের নেতৃত্বে টিআইবি-র কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকগণ প্রভাতফেরিতে অংশ নিয়ে ধীরপায়ে এগিয়ে চলেন শহীদ মিনারের মূল বেদির দিকে।

পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় রফিক, সালাম, বরকতদের সেই অসামান্য ত্যাগের কথা স্মরণ করা হয়। টিআইবি বিশ্বাস করে, একুশের সেই সংগ্রাম ছিল মূলত অবিচারের বিরুদ্ধে এক সাহসী প্রতিবাদ। সেই প্রতিবাদের চেতনাকে ধারণ করেই টিআইবি মনে করিয়ে দেয় যে, বর্তমান সমাজে দুর্নীতি একুশের চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিল, সেখানে দুর্নীতির কোনো স্থান থাকতে পারে না।

টিআইবি বিশ্বাস করে, একুশের চেতনা আমাদের শেখায় প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের কথা। তাই নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধীসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারহরণ করা একুশের চেতনার পরিপন্থী। একটি আধুনিক রাষ্ট্রে যখন এই পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো অবহেলার শিকার হয়, তখন ভাষা আন্দোলনের মূল আদর্শই ক্ষুন্ন হয়।

এই দিনটির গুরুত্ব আজ কেবল বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো যখন ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তখন বাঙালির এই আত্মত্যাগ এক বৈশ্বিক মর্যাদায় উন্নীত হয়। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার অধিকার রয়েছে। ভাষা ও সংস্কৃতির এই বৈশ্বিক আবহে টিআইবি মনে করে, বহুত্ববাদ ও বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান জানানোই হলো এই দিবসের মূল সার্থকতা।

ঢাকার পাশাপাশি সারাদেশের ৪৫টি এলাকায় টিআইবি-র সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপ এবং একটিভ সিটিজেনস গ্রুপ (এসিজি)-র সদস্যরা স্থানীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তাঁরা দেশব্যাপী এই বার্তাই পৌঁছে দেন যে, একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করাই হলো ভাষা শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন। টিআইবি-র এই শ্রদ্ধা নিবেদন ছিল শহীদদের স্মৃতির প্রতি এক অঙ্গীকার, যা একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সকলকে অনুপ্রাণিত করে।


অন্যান্য ওয়েব স্টোরি