মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

প্রকাশকাল: ২৯ জানুয়ারি ২০১৫

জাতীয় শুদ্ধাচার ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয়। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যক্রম পরিচালনা করে। সংবিধানের ১২৮ এর (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘মহা হিসাব-নিরীক্ষক প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব এবং সকল আদালত, সরকারি কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীর সরকারি হিসাব নিরীক্ষা করিবেন ও অনুরূপ হিসাব সম্পর্কে রিপোর্ট দান করিবেন’। এ কার্যালয় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি ব্যয়ে দক্ষতা, কার্যকরতা ও মিতব্যয়িতা আনার ক্ষেত্রে অধিকতর গুরুত্বারোপ করে। সিএজি কার্যালয়ের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারি অর্থ দক্ষতার সাথে ব্যয় হচ্ছে কিনা এবং এই ব্যয়ের ফলে আয়করপ্রদানকারী ও দরিদ্র মানুষের কী কী উপকার হচ্ছে তার বস্তুনিষ্ঠ ও সময়োপযোগী পর্যালোচনা করা। এই কার্যালয়ের মাধ্যমে সংসদের প্রতি নির্বাহী বিভাগের এবং কর প্রদানকারীদের প্রতি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়। এই কার্যালয়ের কার্যক্রমের ফলে গত ৫ বছরে ১৮,৫২৭.৮৫ কোটি টাকা সমন্বয় ও উদ্ধার করা হয়েছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশে সুশাসন আনয়নে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই গবেষণালব্ধ তথ্যভিত্তিক অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সিএজি কার্যালয়ের গুরুত্ব বিবেচনা করে টিআইবি ২০০২ সালে এর ওপরে একটি তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রণয়ন করে। এর পরবর্তীতে এই কার্যালয়ে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন, যেমন নিরীক্ষা পদ্ধতিতে অটোমেশনের সংযোজন, প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিএজি প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ, খসড়া নিরীক্ষা অ্যাক্ট প্রণয়ন ইত্যাদি লক্ষ করা যায়। এসব পরিবর্তন সম্ভব হলেও এখনও প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে এই কার্যালয় অনেক ক্ষেত্রেই নিজস্ব কার্যক্রমগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারছে না। অন্যদিকে এই কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির কারণে সঠিকভাবে নিরীক্ষা আপত্তি উত্থাপিত না হওয়া এবং সরকারি কার্যালয়গুলোর নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যয়কৃত ও আত্মসাৎকৃত অর্থের আদায় না হওয়ায় আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ব্যাহত হচ্ছে।

বিস্তারিত জানতে নিচে ক্লিক করুন-


অন্যান্য গবেষণা প্রতিবেদন