সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫

প্রকাশকাল: ২৫ জুন ২০২৬

টিআইবি পরিচালিত "সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ" বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতে ক্ষুদ্র দুর্নীতির প্রকৃতি, ধরন ও মাত্রার চিত্র তুলে ধরার একটি প্রয়াস। এই জরিপের মাধ্যমে দেশের জনসাধারণ বিভিন্ন সেবাখাত হতে সেবা নিতে গিয়ে যে দুর্নীতির শিকার হয় তার ধরন, ব্যাপকতা ও মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। টিআইবি ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ১১টি দুর্নীতি বিষয়ক জাতীয় খানা জরিপ পরিচালনা করেছে এবং এই খানা জরিপ কোনো প্রকার ধারণা বা মতামত-নির্ভর জরিপ নয়, বরং এতে জরিপকৃত খানার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতালব্ধ তথ্যের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত সেবাখাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়।

এই খানা জরিপে ১৭টি সুনির্দিষ্ট সেবাখাত/প্রতিষ্ঠানের (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, ভূমি, কৃষি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা, বিদু্যুৎ, ব্যাংকিং, বিআরটিএ, কর ও শুল্ক, এনজিও, পাসপোর্ট, বিমা, গ্যাস, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ সহায়তা, জাতীয় পরিচয়পত্র-এনআইডি) ওপর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও, জরিপে অন্তর্ভুক্ত সুনির্দিষ্ট ১৭টি খাতের পাশাপাশি 'অন্যান্য' নামক একটি আলাদা খাতে যুক্ত করা হয়েছে। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ওয়াসা, নির্বাচন কমিশন, ডাক বিভাগ, সমাজসেবা অধিদপ্তর, বিটিসিএল, ডিসি অফিস, ইউএনও অফিসের সেবা প্রভৃতি - 'অন্যান্য খাতে'র অন্তর্ভুক্ত। দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এসব সেবা খাতগুলোর প্রভাব ও গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, এ সমস্ত খাত হতেই সর্বোচ্চ সংখ্যক সাধারণ জনগন সেবাগ্রহণ করে থাকে এবং তা সকলের জীবনমানের উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আর্থিক নিরাপত্তা বিধানে বিশেষ অবদান রাখে।

উল্লেখ্য, মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতি-বিষয়ক এ খানা জরিপের তথ্য সংগ্রহের কাজ পরিচালিত হয়েছিলো ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে সেবাখাতে দুর্নীতি-বিষয়ক তথ্যের বিবেচ্য সময় ছিল নভেম্বর ২০২৪ থেকে অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত। এই জরিপের প্রধান উদ্দেশ্য সরকার, নীতি-নির্ধারক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও অন্যান্য অংশীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেন তারা জরিপের ফলাফল ও তার ওপর ভিত্তি করে টিআইবি প্রণীত সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

জাতীয় খানা জরিপ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন ঃ