নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতনের নির্মমতা: আর নয় নীরবতা, দেশজুড়ে টিআইবি'র প্রতিবাদ!

প্রকাশকাল: ১৬ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশে চলমান নারী ও শিশুদের ওপর ধর্ষণ এবং পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ সারা দেশ। এই নির্মমতা রোধ করা এখন সবার দাবি। এই পৈশাচিক অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে এবং ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাতে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ঢাকাসহ দেশের ৪৫টি অঞ্চলে একযোগে মানববন্ধন পালন করেছে। টিআইবির ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপ, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), বিভিন্ন মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থার কর্মীরাও এই প্রতিবাদে অংশ নেয়।

ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে টিআইবি সরকারের কাছে ১১টি সুপারিশ তুলে ধরে। সংস্থাটি জানায়, এ ধরনের জঘন্য অপরাধ যাতে না হয়, তার জন্য আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে; অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে; দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্মম নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীরা এবং তাদের পরিবারকে সবরকম সাহায্য ও সুরক্ষা দিতে হবে।

"ধর্ষকের সাফাই গাওয়া বন্ধ করুন!"

মানববন্ধনে ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশি আক্রমণের তীব্র সমালোচনা করে টিআইবি। একইসঙ্গে গণমাধ্যমকে "ধর্ষণ" শব্দটি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশের এক কর্মকর্তার দেওয়া পরামর্শেরও কড়া নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি। মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে ডিএমপি কমিশনার আসলে ধর্ষকের পক্ষ নিয়েছেন, তাকে আড়াল করার একটা নির্লজ্জ চেষ্টা করেছেন। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তার এই বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। আমি গণমাধ্যমের বন্ধুদের অনুরোধ করছি, পুলিশের এই ধরনের জঘন্য মন্তব্যকে আবর্জনার মতো ছুড়ে ফেলুন। বরং ধর্ষণ আর নারী নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনা আরও বিস্তারিতভাবে, সাহসের সঙ্গে তুলে ধরুন।"

তিনি আরও বলেন, অপরাধ মানে অপরাধই, তাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা মানে উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে থাকা। ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ যে রকম মারমুখী আচরণ করেছে, অসহিষ্ণুতা দেখিয়েছে তা প্রকৃতপক্ষে স্বৈরাচারী মানসিকতার প্রতিফলন এবং পুলিশকে অবশ্যই এই ধরনের আচরণ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ড. জামান দেশের সব রাজনৈতিক দলের কাছে, বিশেষ করে যারা বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার কথা বলেন, নারী অধিকারের প্রশ্নে তাদের দলের অবস্থান কী, তা পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি ধর্মভিত্তিক দলগুলোর কাছেও তিনি আবেদন করেছেন, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বা গোঁড়ামির বশে যে ধরনের নারীবিদ্বেষী প্রথা চালু আছে, সেগুলো যেন তারা বর্জন করে।

শুধু রাজধানী ঢাকা নয় তৃণমূল পর্যায় থেকেও ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাক আসে ১৬ই মার্চ। সারা দেশে টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর উদ্যোগে মানববন্ধনে যোগ দিয়েছিলেন প্রায় চার হাজার সাধারণ মানুষ। সমবেত কণ্ঠে তারা দাবি জানান: নারী আর শিশুদের ওপর এই নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, অপরাধীদের দ্রুত বিচার করতে হবে।

মানববন্ধনগুলোতে টিআইবির সনাক, এসিজি এবং ইয়েস সদস্যদের পাশাপাশি যোগ দিয়েছিলেন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, সাংবাদিক আর সমাজের নানা স্তরের মানুষ। টিআইবি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছে, যতদিন এই বাংলাদেশ সবার জন্য, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য ভয়হীন নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠবে না, ততদিন তাদের এই আপোষহীন লড়াই চলবেই।


অন্যান্য ওয়েব স্টোরি