জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘বিদ্যুৎ না দিলে বিল নয়’ নীতির দাবি বিশেষজ্ঞদের

প্রকাশকাল: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪

টেকসই ভবিষ্যতের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি জরুরি তাই কমাতে হবে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা। ‘বাংলাদেশ এনার্জি প্রসপারিটি ২০৫০’ শীর্ষক দ্বিতীয় সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এই মত দেন।

তাঁরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ‘বিদ্যুৎ না দিলে বিল নয়’ নীতি চালুর জোর দাবি জানান। এতে দেশের আর্থিক বোঝা কমবে। জ্বালানি খাতে অদক্ষতা দূর হবে, বাড়বে জবাবদিহি।

তিন দিনের এই সম্মেলনে নীতিগত সমন্বয়, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। আর্থিক প্রক্রিয়া, দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতাও এখানে গুরুত্ব পায়। সামাজিক-পরিবেশগত সুশাসন নিয়েও কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি লক্ষ্য অর্জনে টেকসই কৌশলের ওপর জোর দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি) এর আয়োজনে ঢাকার বিয়াম ফাউন্ডেশনে ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)সহ আরও ২১টি সংস্থার সহযোগিতায় সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রায় ৪০০ অতিথি অংশ নেন।

প্রথম দিন: নীতিগত সমন্বয়, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও স্বচ্ছতা

প্রথম দিনে সবুজ জ্বালানিতে উত্তরণে নীতিগত সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। জ্বালানি খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সংক্রান্ত এক সেশনে টিআইবির এনার্জি গভর্ন্যান্স কোঅর্ডিনেটর মো. নেওয়াজুল মওলা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এটি সুশাসন ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ বাধাগ্রস্ত করছে।

দ্বিতীয় দিন: জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উত্তরণ

দ্বিতীয় দিনে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্যারালাল সেশন হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ও সম্ভাবনা, বিনিয়োগে চ্যালেঞ্জ, জমির সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হয়। টেকসই অর্থায়ন, পরিবেশগত ও সামাজিক সুশাসন এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বের ভূমিকাও ছিল আলোচনায়।

সমাপনী দিন: ‘বিদ্যুৎ না দিলে বিল নয়’ নীতি

শেষ দিনে বুয়েটের অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, উদ্বেগের বিষয় হলো বাংলাদেশের কোনো সুনির্দিষ্ট ‘নেট-জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা নেই। সরকারের উচিত দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু লক্ষ্য নির্ধারণ করা। তিনি ডিকার্বনাইজেশন ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য একটি সমন্বিত ‘রোডম্যাপ’ তৈরির আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (আইইপিএমপি) বাতিল করতে হবে। কারণ এটি বাংলাদেশের টেকসই লক্ষ্যের সঙ্গে মেলে না। তিনি নতুন মহাপরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানান। এই পরিকল্পনায় জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারকে গুরুত্ব দিতে হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সমাপনী বক্তব্য দেন। তিনি প্যারিস চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘নেট-জিরো’ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সফল উত্তরণের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা ও সবার সহযোগিতা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।


অন্যান্য ওয়েব স্টোরি