আইন-আদালত ভিত্তিক সাংবাদিকতায় শক্তিশালী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতে টিআইবি, এসআরএফের যৌথ প্রয়াস

প্রকাশকাল: ১৭ নভেম্বর ২০২৪

দিন দিন সমাজের সকল খাতে স্বচ্ছতা আর জবাবদিহির গুরুত্ব বাড়ছে। এমন সময়ে সাংবাদিকরা আছেনসমাজের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায়। কারণ তাঁরাই অনিয়ম আর দুর্নীতির খবর সবার সামনে তুলে ধরেন। বিশেষ করে আইন-আদালত সংক্রান্ত সংবাদ তুলে ধরতে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

এই দরকারি বিষয়টি উপলব্ধি করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এগিয়ে এসেছে দারুণ এক উদ্যোগ নিয়ে। সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) সদস্যদের জন্য টিআইবি সম্প্রতি আয়োজন করে এক বিশেষ প্রশিক্ষণের। ‘অনুসন্ধানী আইন প্রতিবেদন: দক্ষতা ও কৌশল’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি টিআইবির ঢাকা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এখানে অংশ নেন ২৫ জন আইন ও আদালত বিষয়ক সাংবাদিক। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী ক্ষমতা বৃদ্ধি আর বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে তাদের ভূমিকাকে আরও জোরদার করা ছিল এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য।

সবার আগে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

কর্মশালার শুরুতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, “রাজনীতি আমাদের গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পথে বাধা তৈরি করে। ন্যায়বিচার পেতে হলে আদালতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সাংবাদিকরা কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন, তা নির্ভর করে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।”

স্বাধীন সাংবাদিকতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি। এমন সময়েই এই উদ্যোগ। এসআরএফ সভাপতি মাসউদুর রহমান রানাও এই প্রয়োজনের কথা বলেন। তিনি বিচার বিভাগে দুর্নীতি মোকাবিলায় টিআইবির সঙ্গে মিলে কাজ করার প্রস্তাব দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে আমাদের রিপোর্টাররা অনেক সমস্যার মুখোমুখি হন। সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বের করতে হবে।”

বিশেষজ্ঞদের কাছে হাতেকলমে শিক্ষা

কর্মশালায় অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক সঠিক আইন প্রতিবেদনের জন্য জরুরি বিচার ব্যবস্থার এমন অনেক খুঁটিনাটি বিষয় তুলে ধরেন। এমআরডিআই-এর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সহায়তা কেন্দ্রের প্রধান মো. বদরুদ্দোজা শেখান আইন প্রতিবেদনের মৌলিক অনুসন্ধানী কৌশল। কীভাবে আরও ভালো প্রতিবেদন তৈরি করা যায়, সেই পদ্ধতিও তিনি দেখান।

উপস্থিত সাংবাদিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে কর্মশালাটি প্রাণবন্ত আলোচনায় রূপ নেয়। সুপ্রিম কোর্টের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তুলে ধরেন নানা সমস্যা আর ভালো কাজের উপায়। একজন প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিক বলেন, “এই কর্মশালা থেকে শুধু জ্ঞানই পাইনি, জটিল আইনি প্রতিবেদন করার আত্মবিশ্বাসও পেয়েছি। এখানকার কৌশলগুলো আমাদের আরও নির্ভুল প্রতিবেদন তৈরিতে সাহায্য করবে।”

এসআরএফের সাধারণ সম্পাদক জনাব গোলাম রব্বানী বলেন, “এই কর্মশালার অভিজ্ঞতা আমাদের গণমাধ্যমকর্মীদের আরও শক্তিশালী করেছে। তারা এখন আরও ভালো প্রতিবেদন করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”

আইন-আদালত বিষয়ক প্রতিবেদন আরও নিখুঁত করতে নতুন ভাবনা

টিআইবি আর এসআরএফ ভবিষ্যতের জন্যও নতুন পরিকল্পনা করেছে। আইন-আদালত বিটের রিপোর্টাররা প্রতিদিন কী কী সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলো খুঁজে বের করা হবে। আর তাদের জন্য বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজা হবে। এই কর্মশালার পর টিআইবি ও এসআরএফ সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত এমন আয়োজন করবে বলে আশা করা যায়। গভীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতেও তারা সাংবাদিকদের সাহায্য করবে।

এসআরএফ সভাপতি মাসউদুর রহমান রানা বলেন, “সাংবাদিকরা আরও দক্ষ হলে আমাদের বিচার ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ হবে। টিআইবির সঙ্গে এই সহযোগিতার বন্ধন আমাদের সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।” তিনি আরও বলেন, এই প্রথম কর্মশালার সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক ভালো কাজের দরজা খুলে দিয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “এই কর্মশালা আপনাদের আরও ভালো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পথে একটি বড় ধাপ। আপনারা কীভাবে এই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জন্য জরুরি বিষয়গুলো তুলে ধরবেন, আমরা তা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।”


অন্যান্য ওয়েব স্টোরি