তথ্য প্রাপ্তির অধিকার: আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে টিআইবির উদ্যোগ

প্রকাশকাল: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশের আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার । আদিবাসী নারীরা নিজ সম্প্রদায়ের ভেতরেও সবচেয়ে প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছেন। এই গোষ্ঠীগুলোকে, বিশেষ করে তরুণ আদিবাসী নারীদের শক্তিশালী করার লক্ষ্যে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। আদিবাসী অধিকার ভিত্তিক সংস্থা কাপেং ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে টিআইবি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে একটি কর্মশালার আয়োজন করে। এই কর্মশালার মূল বিষয় ছিল তথ্যের অধিকার। আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী এই বিশেষ আয়োজনে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১১টি ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চাকমা, মারমা, গারো, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, খিয়াং, খুমি, সিং, মাহাতো, হাজং এবং ম্রো সম্প্রদায়ের সদস্যরা ছিলেন।

অনুষ্ঠান শুরুতে প্রশিক্ষণার্থী রুন লে ম্রো তথ্যের অধিকারের বিভিন্ন দিক এবং এর কার্যকর ব্যবহার সম্পর্কে আগ্রহের সঙ্গে জানতে চান। তিনি বান্দরবানে তার সম্প্রদায়কে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর মাধ্যমে ক্ষমতায়িত করতে চান বলে জানান। সেখানে খাবার পানি, চিকিৎসা, ইন্টারনেট সংযোগ এবং ব্যাংকিং এর মতো মৌলিক সেবাগুলোর অভাব রয়েছে। এ কারণে রুন লে-কে নানাবিধ প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। অনুষ্ঠান শেষে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হাসিমুখে তিনি বলেন, “আমার সম্প্রদায়ের তরুণরা এই আইন সম্পর্কে জানে না, আমিও জানতাম না। কিন্তু এখন আমি এটি সম্পর্কে জেনেছি। আমি আত্মবিশ্বাসী যে এটি আমাকে আমার নিজের এবং আমার সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার রক্ষায় সাহায্য করবে।”

রুন লে-র গল্পটি সকল অংশগ্রহণকারীর চেতনার প্রতিচ্ছবি। প্রত্যেকেই নিজ নিজ বাধার সম্মুখীন, তবুও তথ্যের অধিকার সম্পর্কে শেখা এবং তাদের সম্প্রদায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার অঙ্গীকারে তারা ছিলেন ঐক্যবদ্ধ।

ক্ষমতায়নের জন্য তথ্যে অধিকার

কর্মশালার অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ ছিল দলগত সেশন। এখানে অংশগ্রহণকারীদের চারটি দলে ভাগ করা হয়। প্রতিটি দল তথ্য অধিকার আইনের অধীনে কীভাবে তথ্যের জন্য আবেদন করতে হয় সে বিষয়ে একটি উপস্থাপনা দেয়। তথ্য পেতে গিয়ে তারা বাস্তব জীবনে যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হন, তা নিয়ে আলোচনা করেন এবং আইনের বিভিন্ন দিক ও সুবিধা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা চান। তারা আইনের বিভিন্ন ধারা এবং তথ্য কমিশনের ভূমিকা সম্পর্কেও ধারণা পান। উল্লেখ্য, তথ্য কমিশন এই আইন বাস্তবায়নের জন্য দায়ী।

নতুন বাংলাদেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের হাতিয়ার তথ্যের অধিকার

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা কর্মশালার লক্ষ্যের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য শুধু তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করাই নয়, বরং মানুষকে সেই অধিকার প্রয়োগে শক্তিশালী করা। তিনি আদিবাসী সম্প্রদায় ও সকল নাগরিকের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সমতল আর পাহাড় এক হলে বন্ধুত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”

টিআইবির উপদেষ্টা ড. সুমাইয়া খায়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি অংশগ্রহণকারীদের দৈনন্দিন জীবনে তথ্যের অধিকার আইন বোঝার এবং প্রয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি এটিকে অন্যায় চিহ্নিত করার একটি হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান তরুণদের নেতৃত্বে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের কথা তুলে ধরেন। তিনি তথ্যের অধিকার আইনকে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই নতুন বাংলাদেশে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন অপরিহার্য। এই নীতিগুলো একটি বৈষম্যহীন আগামীর জন্য অত্যন্ত জরুরি।”


অন্যান্য ওয়েব স্টোরি