প্রকাশকাল: ২৮ এপ্রিল ২০২৪

আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য কতটা সুরক্ষিত? এই প্রশ্নটি এখন প্রায় সবার মনেই ঘুরপাক খায়। ডিজিটাল এই যুগে আমাদের অজান্তেই অনেক ব্যক্তিগত তথ্য চলে যাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থার হাতে। এই তথ্য সুরক্ষার জন্যই একটি আইনের খসড়া তৈরি হয়েছে – ‘ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন, ২০২৪’। কিন্তু এই খসড়া আইনটি তথ্য সুরক্ষার চেয়ে নজরদারির মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ন্ত্রণের দিকেই বেশি ঝুঁকেছে বলে মনে করছে আর্টিকেল নাইনটিন এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তারা বলছে, এই খসড়া আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
সম্প্রতি এই দুটি সংগঠন খসড়া আইনটির একটি পর্যালোচনা করেছে। সেখানে তারা সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে, অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব, 'ব্যক্তিগত তথ্য'র অস্পষ্ট সংজ্ঞা, বাংলাদেশ সরকারের দক্ষতা ও সম্পদের অভাব এবং একটি স্বাধীন তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতি। খসড়া আইনটিতে সরকারি সংস্থাগুলোকে ব্যক্তিগত তথ্যে অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিধানও রয়েছে। বিচারিক তত্ত্বাবধানের অপর্যাপ্ততা এবং 'জনস্বার্থের' নামে বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ব্যাপক ছাড়ের বিষয়টিও উদ্বেগের। পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, খসড়া আইনের ১(২) ধারায় গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে, যা তথ্য সুরক্ষা আইনের বাস্তব প্রয়োগকে দুর্বল করে। এই পর্যালোচনাটির লক্ষ্য হলো এই সমস্যাগুলো সমাধান করা এবং দেশে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
বক্তারা একটি স্বাধীন তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। কারণ, খসড়া আইনে একটি সরকার-নিযুক্ত বোর্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সরকার-নিয়ন্ত্রিত একটি বোর্ড পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে এবং সরকারকে জবাবদিহি করতে ব্যর্থ হতে পারে।
অন্যদিকে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনস্বার্থ রক্ষার অজুহাতে সরকারি সংস্থাগুলোকে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়া হবে, যাকে একটি ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উভয় সংগঠনই বলেছে, বিচারিক তদারকি ছাড়াই সরকারি সংস্থাগুলোকে ডেটা সার্ভারে অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়া সম্ভাব্য অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করে।
তাই, আর্টিকেল নাইনটিন এবং টিআইবি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, সংবিধানে স্বীকৃত মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে খসড়া আইনটির সংস্কার করা হোক।