প্রকাশকাল: ০৫ মার্চ ২০২৪
দেশের বেসরকারি বাস পরিবহন খাতে লাগামহীন দুর্নীতি চলছেই। বাস মালিক-শ্রমিক সমিতি এবং সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে আছে এই খাত, যাদের পেছনে রয়েছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের মদদ। কিছু ক্ষেত্রে, এমনকি সরকারও তাদের সামনে অসহায় বলে প্রতীয়মান।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, বেসরকারি বাস ও মিনিবাস থেকে প্রতি বছর চাঁদাবাবদ প্রায় ১,০৫৯ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। রাজনৈতিক দলের সদস্য, হাইওয়ে পুলিশের সদস্য, সিটি কর্পোরেশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং পৌরসভার কর্মকর্তারা এই অবৈধ অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত। মোট টাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৯০০ কোটি টাকার বেশি, গাড়ির নিবন্ধন, সনদপত্র এবং নবায়নের জন্য বিআরটিএ-এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়।
"বেসরকারি বাস পরিবহন ব্যবসায় শুদ্ধাচার" শীর্ষক এই গবেষণার ফলাফল আজ টিআইবির ঢাকা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়।

২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় ৭০১ জন বাস শ্রমিক, ১৬৮ জন বাস মালিক, ৬৯৬ জন বাস যাত্রী এবং ৫১টি বাস টার্মিনাল পর্যবেক্ষণ করা হয়। এছাড়াও, গবেষক/বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক এবং সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাসহ ৩৭ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। গবেষণায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিও পর্যালোচনা করা হয়। ৩২টি জেলায় বেসরকারি বাস পরিবহনের ওপর এই জরিপ চালানো হয়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অল্প সংখ্যক মালিক দেশের বেশিরভাগ বাস নিয়ন্ত্রণ করেন। নির্দিষ্টভাবে বললে, ২২টি কোম্পানি, যা জরিপকৃত মোট কোম্পানির ১৩.১ শতাংশ, তারা বাস পরিবহন ব্যবসার ৮১.৪ শতাংশের মালিক। এছাড়াও, প্রায় ৯২ শতাংশ বাস মালিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, যাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের এবং ১২ শতাংশ অন্যান্য দলের। এই রাজনৈতিক যোগাযোগ তাদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য এই খাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা দেয়।
২০১৯ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন যে "আইন প্রয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি"। তিনি সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর নয়টি ধারার সংশোধনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই কথা বলেছিলেন। ফলস্বরূপ, আইনটির কার্যকর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি, যা বাস মালিক ও শ্রমিক সমিতির হাতে এই খাতের জিম্মি দশারই ইঙ্গিত দেয়।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ৪০.৯ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক জানান তাদের কোম্পানির এক বা একাধিক বাসের নিবন্ধন বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সনদপত্র নেই। তাদের মধ্যে ২৪ শতাংশ শ্রমিক বলেছেন, তাদের কোম্পানির কিছু বাসের ফিটনেস সনদপত্র নেই, যেখানে ২২ শতাংশ বলেছেন বাসগুলোর রুট পারমিট নেই।
গবেষণার ফলাফলে পরিবহন শ্রমিকদের কাজের সময় এবং তাদের স্বল্প মজুরির অসংগতি, সেইসঙ্গে বেসরকারি বাস পরিবহন ব্যবসার সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের বিষয়গুলোও উঠে এসেছে।
আরও বিস্তারিত জানতে, দেখুন: https://www.ti-bangladesh.org/bn/articles/research/6926