pic_ms_iacd7_16_en.jpg

ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন

User Rating:  / 0
PoorBest 
দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ডস সদস্যদের অংশগ্রহণ ও ভ‚মিকা বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছে। প্রতিনিয়তই তারা নতুন নতুন উদাহরণ তৈরি করছে। তাদের আগ্রহের আরেকটি বড় জায়গা হলো ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন পরিচালনা করা। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ কি এই আন্দোলন পরিচালনা বা মত প্রকাশের ক্ষেত্রে কোন বাঁধা সৃষ্টি করবে? তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায় আইনটিকে ভালো করে জানা এবং বোঝা। অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন প্লাটফর্ম, বিভিন্ন আলোচনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এর প্রসঙ্গটি নানাভাবে উঠে এসেছে, তবে সামগ্রিকভাবে আইনের প্রতিটি ধারা, উপধারা সম্পর্কে অধিকতর স্বচ্ছ ধারণা হয়ে উঠছিলো না। এক পর্যায়ে সচেতন নাগরিক কমিটি ( সনাক), সিলেট এর ইয়েস সদস্যদের কাছ থেকে এই আইনের উপর একটি পাঠচক্র করার প্রস্তাব আসে। এরইমধ্যে পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আঘাত আসে নভেল করোনাভাইরাসের। ব্যস হঠাৎ করেই মনে হতে লাগলো সকল কার্যক্রম কি তবে এবার বন্ধ হলো?!   
কিন্তু না, মানুষ তো এত সহজে পিছু হটেনা। এরই মধ্যে অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিলো অনলাইন বিভিন্ন মাধ্যম। ঘরে বসেই একটু একটু করে শুরু হলো এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা। এই প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ সম্পর্কে জানাটা আরো বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়লো। সনাক সিলেট এর ইয়েস সদস্যরা তাই উদ্যোগ নিলো অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করেই এ বিষয়ে একটি পাঠচক্র পরিচালনা করার। তাদের এই উদ্যোগকে সনাক সিলেট স্বাগত জানালো। সাধুবাদ আসলো টিআইবি থেকেও। পরে একইসাথে আমন্ত্রণ জানানো হলো সিলেট ক্লাস্টারের অর্ন্তভ‚ক্ত অন্য চারটি সনাক অর্থ্যাৎ সুনামগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কিশোরগঞ্জ সনাক এর ইয়েস বন্ধুদের। অবশেষে ০৫ জুলাই ২০২০ বিকালে ’জুম মিটিং’ প্লাটফরম ব্যবহার করে “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল প্লাটফরম ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন পরিচালনা’ বিষয়ে একটি পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঠচক্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০০৮ এর উপর বিস্তারিত আলোচনা করেন সনাক সদস্য এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম। আলোচক হিসেবে আরো ছিলেন টিআইবি’র সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ফারহানা ফেরদৌস এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো: আতিকুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সনাক সিলেট এর সহ-সভাপতি এ কে শেরাম এবং সৈয়দা শিরিন আক্তার।  
আলোচকগণ বলেন, যুগে যুগে রাস্ট্রযন্ত্র ও ক্ষমতা ব্যবহারকারীরা প্রতিবাদী ও সাধারণ মানুষের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা হিসেবে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে আসছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তেমনি একটি। টিআইবি’র মত যেসকল প্রতিষ্ঠান সমাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে, তাদের জন্য এসব আইন প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখা দেয়। তাই এসকল আইন সম্পর্কে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের কর্মী হিসেবে আমাদের ভালভাবে ধারণা রাখতে হবে এবং এর মধ্যেই আমাদের সর্তকতার সাথে কাজ করে যেতে হবে। বক্তরা আরো বলেন যেকোন দু:সময়ই একটি নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি করে। তাই থেমে থাকলে চলবে না; বরং প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।
সনাক সিলেট সহ সিল্টে ক্লাস্টারের অন্যান্য সনাকের মোট ৫৫জন ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ডস সদস্য’র অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই পাঠচক্র একসময় মুক্ত আলোচনায় পরিণত হয়। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করে তরুণ, উদ্যমী ইয়েস সদস্যরাও একই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একইসাথে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নানা অসংগতি এবং  মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে - এমন ধারাগুলো থাকা সত্তেও তারা ডিজিটাল প্লাটফরম ব্যবহার করে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। 
 
প্রতিবেদন তৈরি
নাজমা খানম নাজু, প্রোগ্রাম ম্যানেজার- সিই, সিলেট ক্লাস্টার, টিআইবি
মো: সাজিদুর রহমান, এরিয়া ম্যানেজার, সনাক সিলেট, টিআইবি

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year