pic_ms_iacd7_16_en.jpg

A article about Blood Donation

User Rating:  / 9
PoorBest 

রক্ত নিয়ে কিছু কথা লেখা অবশ্যই দরকার। তার মানে এই নয় যে, এই লেখাটি কোন গবেষণামূলক প্রবন্ধ। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে লেখার চেষ্টা করছি, যাতে করে মানুষকে কিছুটা হলেও সচেতন করা যায়।
যাত্রাপুর ইউনিয়নের শতভাগ ফ্রী ব্লাড গ্রুপিং এর উদ্দেশ্য ছিলো ব্লাড ডোনার তৈরি করা, রক্ত সম্পর্কে জনসচেনতা তৈরি। এই প্রোগ্রামের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে দেখেছি শতকরা এক ভাগ মানুষও ব্লাড ডোনেট করতে আগ্রহী নয়। আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো যে পাড়ার লোকের ব্লাড প্রয়োজন হবে, সেই পাড়ার ডোনার থেকে ব্লাড ম্যানেজ হবে, এতে করে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হবে, কিন্তু না, মানুষ ব্লাড দিতে আগ্রহী নয়। ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইনে আমাদের একটি টিমকে এক পরিবার সহযোগীতা করেন নি অর্থাৎ তারা গ্রুপিং করেন নি, তাদের গ্রুপিং নাকি দরকার নাই। এক সপ্তাহের ভিতর তাদের রক্তের প্রয়োজন হলো, আমাদের যথারীতি প্রশ্ন – পরিবারের সকলের ব্লাড গ্রুপিং এর কাগজ দেখান, সেই সময় ঐ টিম বিস্তারিত জানালো। এই হলো মফস্বলের অবস্থা।
এ বার মূল কথায় আসা যাক, আপনি কেন রক্ত দিবেন? আপনি যদি রক্ত দান না করেন আর আপনার প্রয়োজনে ব্লাড ডোনেট ক্লাবের সহযোগীতা নেন, ক্লাবগুলো এতো ডোনার কোথায় পাবে? তাদের তো ভরসা আপনারা। তারা বাড়ির খেয়ে বনের মোষ তাড়াচ্ছে, নানা ধরণের বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে, আবার কখনও যদি ব্লাড ম্যানেজ না হয় তখন মনের মাধুরী মিশিয়ে গালি দিচ্ছেন। ভেবে দেখেছেন যে, সমাজের জন্য আপনি কি করেছেন? আপনার নিজের পরিবার-আত্মীয়-স্বজনের ব্লাডের জন্য আপনি মরিয়া হয়ে উঠছেন, কিন্তু নিজের রক্তের গ্রুপ জানেন না। তাহলে আপনি কতটা দায়িত্বশীল আপনার পরিবারের প্রতি?
অনেক সময় ব্লাড ডোনার পাঠালে গ্রহীতাদের এমন ভাব যে, এটা তাদের অধিকার। আপনার জানা উচিৎ, যে ছেলে বা মেয়ে আপনার স্বজনকে ব্লাড দিলো সে কিন্তু এক পয়সার সুবিধা নেয় না আপনার কাছ থেকে। নিজে যদি এতো পারেন, ব্লাড নিজে ম্যানেজ করতে পারেন না কেন? এই গুলো রাগ বা অভিমানের কথা না, কথা হচ্ছে বাস্তবতার। আপনার ভাই বা সন্তান যখন টং দোকানে বিড়ি টানছে, তখন অন্য কারো ভাই বা সন্তান আপনার স্বজনকে রক্ত দিচ্ছে, তাকে সরাসরি টাকা অফার করা অপমানের, এটা কি তথাকথিত সামাজিক লোকদের মাথায় আসে না?
প্রযুক্তির যুগে বসবাস আমাদের, নিত্য-নতুন কত কত প্রযুক্তি নাগালের মধ্যে। স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ার কয়েক মাসের মাথায় আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব। বেশির মানুষ সেটি করছে এবং লিঙ্গ জানার পরে-ই কোরআন-হাদিস, গীতা-বাইবেল নিয়ে নাম রাখার ব্যস্ত হয়ে পড়ে। নাম হবে ধর্মীয় আবার স্টাইলিশ, অনেকটা সিম্পলের ভিতর গর্জিয়াস টাইপের। কিন্তু যে নারীর শরীরে আপনার অনাগত সন্তান তিলে তিলে বেড়ে উঠছে, তার খোঁজ কতটুকু রাখছেন? তার হিমোগ্লোবিন ঠিক মত আছে কি না, ডেলিভারীর সময় রক্ত লাগবে কি না, সেই গ্রুপের রক্ত নিজের আত্মীয়-স্বজনের ভিতর ম্যানেজ হয় কি না, এই বিষয়গুলো তো মাথায় রাখতে হবে। ডেলিভারীর আধা ঘন্টা আগে ফোন দিবেন যে “এবি নেগেটিভ” রক্ত লাগবে এখন-ই, এতো দিন কোথায় ছিলেন? দূর্ঘটনায় রক্ত লাগা আর প্রসবকালীন রক্ত লাগা এক নয়। গর্ভবতীর জন্য কমপক্ষে দুই মাস আগে থেকে রক্তের ব্যবস্থা করা উচিৎ। এই ব্যস্ত জগতে আপনার জন্য কেউ বসে থাকে না, থাকবে না।
পুরো ব্লগে বেশির ভাগ কথা নেগেটিভ-কাটখোট্টা টাইপের মনে হতে পারে, তবে বিষয়টি একটু ভেবে দেখেন, আপনি রক্ত নিবেন, দিবেন না। অন্যজনও তাই করে, আরেকজনও তাই। তাহলে রক্ত আসবে কোথা থেকে? সময় মতো রক্তের সন্ধান না করলে তো জীবনের ঝুঁকি বাড়বে। রক্তের ব্যাপারে নিজে সচেতন হোন, আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজনদের সচেতন করুন। সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।

 

Comments   

 
+5 #3 Injamul Safin njamul 2019-02-26 11:53
Excellent !
Quote
 
 
+5 #2 Mahmudhossain 2018-10-04 11:45
valo
Quote
 
 
+6 #1 Mohammed Abdus Salam 2018-09-08 23:39
ভাল লিখেছেন।
Quote
 

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year