pic_ms_iacd7_16_en.jpg

সরকারী হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেয়া অসুস্থ বৃদ্ধ `এলাক' এর সহযোগীতায় উক্ত হাসপাতালেই এক্স-রে করতে সক্ষম হলেন

User Rating:  / 2
PoorBest 

 

 

 

মাদারীপুর সদর হাসপাতাল থেকে পর পর দুদিন ফিরিয়ে দেয়া হলেও দরিদ্র এমদাদ তালুকদার অবশেষে অসুস্থ বৃদ্ধ পিতার এক্স-রে করাতে সক্ষম হয়েছেন। টিআইবি মাদারীপুর অফিসের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড লিগ্যাল অ্যাডভাইস সেন্টার- এলাক’র পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে হাসপাতালের আরএমও’র নিকট অভিযোগের ফলে এক্স-রে করাতে সক্ষম হন তিনি।

গত ০৯ আগষ্ট ২০১৭ খ্রিঃ সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বৃদ্ধ আঃ লতিফ তালুকদারকে নিয়ে তার পুত্র এমদাদ তালুকদার মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। ডাক্তারের ব্যাবস্থাপত্র অনুযায়ী এক্স-রে করার জন্য হাসপাতালের এক্স-রে রুমে যান তারা। কিন্তু এক্স-রে রুমে কর্তব্যরত হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনোলোজিস্ট (রোডিওলজি) কোন কারন না জানিয়েই তাদেরকে বলেন, হাসপাতালে এক্স-রে করা যাবেনা, বাইরের কোন ক্লিনিক থেকে এক্স-রে করতে হবে। বাইরের ক্লিনিকে এক্স-রে করাতে বেশি টাকা লাগে এবং তার নিকট পর্যাপ্ত পরিমান টাকা না থাকায় ঐদিন ফিরে গিয়ে তার বাবাকে নিয়ে পরদিন পুনরায় এক্স-রে করাতে আসেন। ঐদিনও অর্থাৎ ১০আগষ্ট ২০১৭ তারিখেও তাদেরকে বলা হল, হাসপাতালে এক্স-রে করা যাবেনা, বাইরের কোন ক্লিনিক থেকে এক্স-রে করতে হবে।

এমতাবস্থায় পূর্বের একটি এলাক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে পাওয়া টিআইবি’র ‘এলাক’ এর মোবাইল নম্বরে কল করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন এমদাদ তালুকদার। অভিযোগ শুনে ভূক্তভোগীকে হাসপাতালের আরএমও সাহেবকে এ বিষয়টি জানানোর জন্য এলাক থেকে পরামর্শ দেয়া হয় এবং আরএমও সাহেবের মোবাইল নম্বরও তাকে সরবরাহ করা হয়। তৎক্ষনাৎ এমদাদ তালুকদার আরএমও সাহেবকে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আরএমও সাহেব এক্স-রে রুমে কর্মরত মেডিক্যাল টেকনোলোজিস্ট (রোডিওলজি) অজিত কুমার ঘোষ এর নিকট কারন জানতে চাইলে অজিত কুমার জানান, কারেন্টের ভোল্টেজ কম থাকায় বাইরে থেকে এক্স-রে করাতে বলেছিলেন। প্রতিউত্তরে আরএমও সাহেব অজিত কুমারকে জিজ্ঞাসা করেন, রোগীকে উক্ত কারনটির কথা কেন বলা হয়নি। তখন অজিত কুমার ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং  কারেন্টের ভোল্টেজ বাড়লে উক্ত রোগীর এক্স-রে করে দেয়া হবে বলেও তিনি আরএমও সাহেবকে জানান। ঘন্টা খানেক পরে উক্ত হাসপাতালে অভিযোগকারীর বাবার এক্স-রে করতে সক্ষম হন।

পরবর্তীতে এবিষয়ে টিআইবি’র মাদারীপুর অফিস থেকে মেডিক্যাল টেকনোলোজিস্ট (রোডিওলজি) অজিত কুমার ঘোষ এর সাথে কথা বলা হয়। বলা হয় যে, পর পর দু-দিন এক্স-রে করতে গিয়েও এক্স-রে করতে না পারা এবং তার কারন সম্পর্কে রোগীকে না জানানো একজন অসুস্থ রোগীর জন্য দুঃখজনক। দীর্ঘদিন থেকে সনাক-টিআইবি সদর হাসপাতালের সচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরপরও যদি সাধারণ মানুষের কাছে হাসপাতালের সেবা সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব তৈরী করা না যায় তাহলে হাসপাতালে কর্মচারীদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পরে। অজিত কুমার ঘোষ বলেন, ‘তিনি তার ভূল বুঝতে পেরেছেন এবং ভবিষ্যতে তার দ্বারা এরকম ঘটনা আর হবে না বলেও আশ্বাস প্রদান করেন।’

এলাক’র সহযোগিতা সম্পর্কে এমদাদ তালুকদার বলেন, “আমি যেরকম এলাক’র পরামর্শ নিয়ে উপকৃত হয়েছি, আমার মত অন্যরাও যেন এরকম উপকার পায়।”

 

 

 

 

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year