pic_ms_iacd7_16_en.jpg

প্রতিটি পন্যের MRP হোক

User Rating:  / 5
PoorBest 

কয়েক দিন আগে যাত্রাপুর বাজারে গিয়েছিলাম একটি ইলেকট্রিক কেটলি ক্রয় করতে, তো পরিচিত এক দোকানী বললেন ১.৮ লিটার সাড়ে নয়শত টাকা দেন। আমি বললাম কম কিছু, তার উত্তর, ভাইজান কি যে বলেন! আপনার কাছে থেকে বেশি রাখবো, তা কি করে হয়? আমি বললাম আমার নোভা কোম্পানির লাগবে, সেটা তো আপনার কাছে নেই, আমি একটু অন্য দোকানে দেখি।
অন্য দোকানে যেতেই সেই দোকানী ঐ একই কেটলি বললো তুই নিলে ৮৫০ টাকা, আমি বললাম ৮০০ টাকায় হয় না, সে বললো আর দশটা টাকা দে। একটি উদাহরণ মাত্র। ইলেকট্রিক চার্জার লাইট, চার্জার ফ্যান সহ অনেক প্রয়োজনীয় সামগ্রী (ইলেকট্রিক, ইলেকট্রনিক্স, প্রসাধনী ইত্যাদি) চায়না বা ভারত থেকে আমদানী করা হয় বলে জানি। আর এই সকল প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করতে গিয়ে আমাদের বিভিন্ন সময়, বিভিন্নভাবে প্রতারিত হতে হয় - কখনও মূল্যে আবার কখনও পণ্যের মানের ক্ষেত্রে। বাগেরহাটের এক  পরিচিত দোকান থেকে একটি পারফিউম ক্রয় করেছিলাম ১২৩০ টাকা দিয়ে, অন্য দোকানে জিজ্ঞাসা করলে বললো ৯৮০ টাকা। ফেসবুকে একজন লিখেছেন, বৈদ্যুতিক ফ্যানের দাম ইচ্ছা মতো হারে বাড়ছে।
আমদানী করার ক্ষেত্রে কিন্তু যে কেউ ইচ্ছা করলে-ই পণ্য আমদানি করতে পারেন না। লাইসেন্স করে, এলসি খুলে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে পণ্য আমদানি করতে হয়। আর আমদানির সময় পণ্যের CIF (Cost, Insurance and Freight charge) Value নির্ধারিত থাকে। এর উপর আমদানিকারকের মুনাফা, বন্টন ব্যয় ও খুচরা বিক্রেতার মুনাফা যোগ করে সহজেই প্রতিটি পণ্যের MRP (Maximum Retail Price) নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে। MRP এর পাশাপাশি প্রতিটি পণ্যে আমদানিকারকের সিল, ঠিকানা ইত্যাদি উল্লেখ করা যেতে পারে। এতে করে আমরা ডুপ্লিকেট পন্য থেকে সতর্ক হতে পারবো।
আমাদের (আমজনতা) ভয়েস রেইজ করা ছাড়া কি করার আছে? আমরা ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে লিখতে পারি, কোন সভা-সেমিনারে কথা বলার সুযোগ পেলে বলতে পারি, সর্বোপরি সরকারের উদ্যোগ নাগরিকের দ্বারপ্রান্তে সেবা পৌঁছে দেওয়া, তার-ই অন্যতম মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপ সেখানে পোষ্ট করতে পারি - সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নজরে আনার জন্য।
আমার সরকারের কাছে প্রস্তাবনা হলো -
০১) আমদানি-রপ্তানি বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে CIF Value সঠিক কিনা তা যাচাই করা। কারণ আমরা আমাদের বেশির ভাগ ব্যবসায়ীদের উপর আস্থাশীল না।
০২) আমদানীকারকদের  MRP মূল্য নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া।
০২) ভোক্তা অধিকার আইনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের দ্বারা কমিটি করে MRP মূল্যের মধ্যে কোন কারচুপি আছে কিনা তা অনুসন্ধান করা।
০৩) নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দ্বারা ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আরো বেশি নজরদারী বাড়ানো, যাতে করে আমদানীকৃত পণ্যের উপর অতি মুনাফা কেউ করতে না পারে।
০৪) আমদানীকারকদের সাথে আলোচনায় বসা এবং তাদের পরিষ্কারভাবে বোঝানো যে, দেশের ও জনগণের স্বার্থে তাদের এইগুলো মানতে হবে।
০৫) সর্বশেষ, দেশে প্রচলিত যে সকল আইন রয়েছে তার যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে জন-হয়রানীরোধ ও নিরাপত্তা বিধানে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সর্বোচ্চ সচেষ্ট হতে হবে।

 

 

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year