pic_ms_iacd7_16_en.jpg

এলাকের সহায়তা নিয়ে স্থানীয় এক নাগরিকের প্রচেষ্টায় বরখাস্ত হলেন জাল সনদধারী দুই শিক্ষক !!

User Rating:  / 3
PoorBest 

লালমনিরহাটের সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের এক ব্যক্তি পরিচিত একজনের কাছ থেকে শুনে ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসে টিআইবি’র এলাক এ আসেন। জমির দখল সংক্রান্ত বিষয়ে আইনী পরামর্শ নিয়ে প্রথমবার ফিরে যান। তবে মার্চ মাসের এক তারিখে আবার হাজির হন শিক্ষা সংক্রান্ত ভয়াবহ জালিয়াতি/দুর্নীতির গোপনীয় একটি অভিযোগ নিয়ে। নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিনি জানান, স্থানীয় গবাই মধ্যপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইজন সহকারী শিক্ষক জাল/ভূয়া সার্টিফিকেট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাকুরী করে আসছে। যারা নিজেরাই জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া সার্টিফিকেট ব্যবহার করে চাকরী নিয়ে শিক্ষকতার মত মহান পেশাকে কলুষিত করেছে তাদের কাছ থেকে কখনই সুশিক্ষা আশা করা যায়না। তাদের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নিলে এই দুস্কৃতিদের হাত থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে তথা কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদেরকে রক্ষা করা যাবে উক্ত অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রত্যাশা করেন।

অভিযোগকারীকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সনদ জালিয়াতির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ করতে পরামর্শ দেয়া হয়। অভিযোগকারী ঐদিনই পরিচয় গোপন রেখে ডাকযোগে পরামর্শকৃত কর্মকর্তাদের বরারবর লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। কিন্তু দীর্ঘ এক মাস অতিবাহিত হলেও কাংখিত কোন ফলাফল না দেখে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের যোগসাজস থাকার ব্যাপারে অভিযোগকারীর নিকট সন্দেহ হয়। তিনি আবারও এলাক ফ্যাসিলিটেটর এর সাথে যোগাযোগ করেন এবং তার সন্দেহের কথা প্রকাশ করেন। সন্দেহের কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষা সনদ ভালভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা না করে ঐ শিক্ষকদ্বয়ের চাকরী দেয়া এবং জাল সার্টিফিকেটের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কোন ধরনের ব্যবস্থাতো নেয়ইনি বরং মাসশেষে উক্ত শিক্ষকদ্বয় বেতনও পেয়েছেন। 

পরবর্তীতে অভিযোগকারীকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠাতে পরামর্শ দেয়া হয় এবং উক্ত অভিযোগের কপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক(প্রশাসন), পরিচালক(অর্থ), রংপুর বিভাগীয় পরিচালক বরাবরও পাঠাতে পরামর্শ দেয়া হয়। ইমেইলের মাধ্যমে অভিযোগ দ্রুত পৌছানোর জন্য অভিযোগকারীকে এলাকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলের ইমেইল এড্রেসও সরবরাহ করা হয়।

পরামর্শ অনুযায়ী অভিযোগকারী গত ০৩ এপ্রিল ২০১৭ তারিখ সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক বরাবর ইমেইল মারফত লিখিত অভিযোগ পাঠান এবং পাশাপাশি উক্ত অভিযোগের কপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক(প্রশাসন), পরিচালক(অর্থ), রংপুর বিভাগীয় পরিচালক বরাবরও পাঠান। ফলশ্রুতিতে দেখা যায়, কিছুদিন পর সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল ইমরান খন্দকার অভিযোগের তদন্ত করেন এবং ঘটনার সত্যতা পেয়ে গত ১৭ এপ্রিল ২০১৭ তারিখ সোমবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন সরকার এর নিকট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকারী বিধি অনুযায়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রিজওয়ানুল হক এর সাথে যোগাযোগ করে আরও জানা যায় যে, অভিযুক্ত শিক্ষকদ্বয়ের বিরুদ্ধে সরকারী বিধি অনুযায়ী ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হবে।

 

...................................................................................

মিজানুর রহমান
ফ্যাসিলিটেটর,
অ্যাডভোকেসী অ্যান্ড লিগাল অ্যাডভাইস সেন্টার (এলাক)
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

 

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year