pic_ms_iacd7_16_en.jpg

জন-সাংবাদিকতা, সিটিজেন'স ভয়েস অব বাগেরহাট ও একজন নাজিম উদ্দিন

User Rating:  / 4
PoorBest 

ফেসবুক আমাদের সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনার পাশাপাশি অনেক জিনিস সামনে এনেছে। ইদানিং অনেক আন্দোলনের ডাক দেওয়ার স্থান এই ফেসবুক। প্রতিবাদের একটি প্লাটফর্ম, তাছাড়া আমাদের সামাজিক নানান অসংগতি তুলে ধরা হচ্ছে। কিছু অসাধু লোক এর অপব্যবহার করছে না, তা কিন্তু নয়। কিন্তু আমাদের বাগেরহাটের কিছু মানুষ তাদের আস্থার স্থান, প্রতিবাদের স্থান, অভিযোগ জানানোর প্লাটফর্ম হিসাবে ব্যবহার করছে এই ফেসবুককে। হয়তো আরো অনেক জেলাতে এর চর্চা হচ্ছে বা হবে, কিন্তু আমি মনে করি আমরা কিছুটা হলেও সফল। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অনেকের থাকতে পারে, বিরূপ মন্তব্যও হতে পারে, তবে এই প্লাটফর্ম যে আমাদের জন্য আশির্বাদ তা কেউ স্বীকার করুক আর না করুক, আমি বিশ্বাস করি।
এতক্ষণ বলছিলাম সিটিজেন’স ভয়েস অব বাগেরহাট নামক ফেসবুক গ্রুপের কথা। এই গ্রুপটি যিনি তৈরি করেছেন তিনি আমার খুবই স্নেহভাজন তরুণ সাংবাদিক ও ছোট ভাই সরদার ইনজামামুল হক। হয়তো অনেকে অনেক গ্রুপ তৈরি করেন, কিন্তু এটি  আমাদের জন্য অন্য রকম একটি স্থান। বাগেরহাটের মাননীয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জনাব মোমিনুর রশীদ মহোদয় এই গ্রুপে একটি বড় ভূমিকা রাখছেন। কেউ যদি কোন অসঙ্গিতর কোন তথ্য তুলে ধরছেন, তা তিনি বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের দ্বারা তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এখানেই জন-সাংবাদিকতার আসল সুফল আমরা পেতে শুরু করেছি।
জন-সাংবাদিকতা, ব্লগ বা রিপোর্ট লেখার উপর টিআইবি ট্রেনিং করালেও আমার গন্ডি ছিলো ব্লগ লেখা আর অসঙ্গতি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া। সেই অসঙ্গতি পড়ে কেউ কেউ কমেন্ট করলেও সমাধান হয়েছে বলে মনে হয় না। কিন্তু এই গ্রুপে যুক্তিসঙ্গতভাবে পোষ্ট করলে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে আমার জানা নেই।
এবার আসি আমার একটি আস্থার মানুষ, যিনি এই গ্রুপের অভিযোগ নিয়ে নিরালসভাবে কাজ করে চলেছেন, তাঁর কথায়। তিনি বাগেরহাটের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জনাব নাজিম উদ্দিন মহোদয়। তার সাথে সাক্ষাতে কখনও কথা হয়নি, ফোনে একদিন কথা বলেছি। তাঁর ব্যবহারে আমি শুধু মুগ্ধ হয়েছি তা কিন্তু নয়, আমাদের পরিচিত ছোট ভাই-বোন যারা ফেসবুকে বা মোবাইলে যোগাযোগ করেছেন, তারা তাঁর কর্মকান্ডে মুগ্ধ এবং অভিভূত। এমন সরকারি কর্মকর্তা পাওয়া দুষ্কর বলে অনেকের মত। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মহোদয়ের কর্ম তৎপরতায় আমাদের যাত্রাপুর-বাগেরহাট সড়কের যাত্রী পরিবহনে পরিবর্তন এসেছে, জুয়াড়ি ধরা পড়েছে, ভেজাল খাদ্য দ্রব্য, প্রসাধনী জব্দ হয়েছে, ইভটিজারের স্থান হয়েছে কারাগারে, বাগেরহাট-খুলনা রুটের যাত্রীবাহী বাসে চলাচলের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, ফার্মেসীর কারচুপি ধরা পড়েছে, ডায়গনেষ্টিক সেন্টারের কারচুপির জন্য জরিমানা করেছেন, গ্যাস কোম্পানি, সার কোম্পানির দুর্নীতির জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন, শিশুকে নির্যাতনকারীর দুই বছরের বাসস্থান হয়েছে কারাগার, আছে এমন আরো উদাহরণ। প্রতিদিন-ই সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন সাফল্য।
কিন্তু সিটিজেন’স ভয়েস অব বাগেরহাট গ্রুপে কিছু সদস্য আছেন, যাদের আমি আমার ভাষায় বলতে চাই নিরাশাবাদী। সেই সব সম্মানিত ব্যক্তিগণ কোন কিছুতে ভাল খুঁজে পাচ্ছেন না কেন, এটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। এটা আমাদের বুঝতে হবে যে, প্রশাসনের হাতে রূপকথার সেই আলাদীনের চেরাগ নেই। রাতারাতি সব কিছু ঠিক করা যায় না। একটি প্রতিবাদ জানানোর, অভিযোগ করার মতো স্থান পেয়েছি, ফলাফল পাচ্ছি, এই অল্প সময়ে আর কতো আশা করা যেতে পারে? মাঝে মাঝে মনে হয়, আমার বা আমাদের জন্ম বাগেরহাটে, এই বাগেরহাটকে সুন্দর করার জন্য আমরা কি কি কাজ করেছি, তার একটি তালিকা করা দরকার। আর অন্য স্থান থেকে যারা চাকুরির সুবাদে এসেছেন তাদের কাছে আমাদের চাহিদা কত? অনেকের উত্তর, এটা তাদের কাজ, এটা তাদের দায়িত্ব। সেই সব উত্তরদাতাকে আমি একটি প্রশ্ন করতে চাই, তা হল – এই দেশটা কি শুধু চাকুরীজীবীদের, শুধু কি সরকারি দলের, শুধু কি দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাকি আপনার আমার সবার। যদি সবার হয়, তবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের পাশাপাশি আমাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। যারা কাজ করছেন, তাদের উৎসাহ দিতে হবে, কাজে সহায়তা করতে হবে।
আমরা চাই একটি সুন্দর বাংলাদেশ, বাসযোগ্য বাংলাদেশ। যেখানে প্রাণ ভরে শ্বাস নিতে পারবো আমরা সবাই। আলো আসছে, আলো আসবেই।

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year