pic_ms_iacd7_16_en.jpg

মানব পাচারকারীচক্র কতৃক অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ থেকে এলাক এর পরামর্শে দেশে ফিরতে সক্ষম হলেন লালমনিরহাটের এক যুবক।

User Rating:  / 4
PoorBest 

অনেক স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে থাকে মানুষ। আর সেই স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে মানুষ চালায় ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। তেমনিভাবে স্বপ্ন দেখেছিলেন লালমনিরহাটের সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চরখাটামারী গ্রামের যুবক ইদ্রিস আলী। পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় বিদেশ পাড়ি জমানোর স্বপ্ন পূরনে ইদ্রিস আলী পার্শ্ববর্তী দালালদের (আবেদ আলী ও তার দাদা শশুর গফুর আলীর) প্রোরচনায় পড়েন। দালালদের খপ্পরে পরে পিতার জায়গা জমি বিক্রি করা নগদ ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা তুলে দেন নাম ঠিকানা না জানা এক কোম্পানীর প্রতিনিধির কাছে। দীর্ঘদিন কালক্ষেপনের পর ইদ্রিস আলীকে বেশ কয়েকবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমান বন্দর পর্যন্ত নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা বা কারন দেখিয়ে আবার বাড়ি ফেরত পাঠায়।

এমনি করে একদিন ফ্লাইট ঠিক হয়েছে এই কথা বলে তাকে আবার ঢাকা যেতে বলে। কিন্তু এরপর অনেকদিন পর্যন্ত তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।  তবে গত বছর জুন মাসে পাচারকারীচক্রের একজন প্রতারক ভিওআইপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি বাংলাদেশী টেলিটক নম্বরের মাধ্যমে পাচারকৃত ব্যক্তির ভায়রা ভাই আব্দুর রউফ এর মোবাইলে ফোন করে এবং বলা হয় যে, তার ভাই লিবিয়াতে তাদের হেফাজতে আছে কিন্তু লিবিয়াতে কাজ পাওয়ার জন্য তাদেরকে আরও এক লক্ষ টাকা দিতে হবে। অন্যথায় দেশে ফিরত পাঠানো হবে। চক্রটি তার ভাইয়ের সাথেও কথা বলিয়ে দেয় এবং টাকা চাওয়ার জন্য তার ভাইকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। পরবর্তিতে উক্ত চক্রটির নির্দেশ অনুযায়ী দেশে অবস্থিত একটি বিকাশ নম্বরে ভুক্তভোগীরা ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা পাঠায়। কিন্তু কিছুদিন পর চক্রটি আবার ৫০,০০০/-(পঞ্চাশ হাজার) টাকা পাঠাতে বলে অন্যথায় তার ভাইয়ের কিডনী বিক্রি করা হবে বলে হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগীরা আবারও বিকাশের মাধ্যমে ৫০,০০০/-(পঞ্চাশ হাজার) টাকা পাঠায়। কিন্তু এরপরও তারা থেমে নেই, আবারও অভিযোগকারীর মোবাইলে টাকা চাইতে থাকে। এমনকি ভুক্তভোগীরা যখন টিআইবি অফিসে এলাক ফ্যাসিলিটেটরের কাছে ঘটনাগুলো বর্ণনা করছিলেন তখনও চক্রটি তাদের কাছে বারবার ফোন করে টাকা চাইতে থাকে যা মোবাইলের লাউড স্পিকারের মাধ্যমে সবাইকে শুনানো হয়।  

যেই কোম্পানীর সহযোগীতায় বিদেশ গিয়েছে যেহেতু সেই কোম্পানীর কোন নির্দিষ্ট অফিস বা অফিসের কোন কর্মকর্তাদের তথ্য সম্পর্কে তাদের জানা নাই অতএব এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত তাদের পার্শ্ববর্তী উক্ত দালালের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ জেলা পুলিশ সুপার এবং র‌্যাব অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রমান রাখার জন্য পাচারকারীচক্রের সাথে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করে রাখতে বলা হয়।  

পরামর্শ অনুযায়ী আব্দুর রউফ, ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলীর বাবা ও অন্যান্য স্বজনরা মিলিতভাবে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উক্ত কর্মকর্তাদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করেন। পুলিশের সদর থানা তথ্য প্রমান ছাড়া অভিযোগ আমলে নিতে অনীহা প্রকাশ করলেও এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসে র‌্যাপিড একশান ব্যটিলিয়ন (র‌্যাব)-১৩। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী র‌্যাবের একটি টিম পাচারকারীচক্রের সাথে জড়িত স্থানীয় দালাল আবেদ আলীকে গ্রেফতার করার জন্য তার বাড়িতে অভিযান চালায়। কিন্তু উক্ত দালাল কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে র‌্যাব আশেপাশের জনসাধারনের কাছ থেকে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে আরও ব্যাপকভাবে জানতে পারে এবং উক্ত দালালের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মসমর্পন করতে বলেন অন্যথায় র‌্যাব যেকোনভাবে তাদেরকে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। র‌্যাবের এই পদক্ষেপের ফলে টনক নড়ে পাচারকারী চক্রের। খবর পৌঁছে যায় লিবিয়ায় অবস্থানকারী পাচারকারী চক্রের অন্যান্যদের কাছে। পরদিন সকালে চক্রটি চোখ বাঁধা অবস্থায় ইদ্রিস আলীকে লিবিয়ার একটি ফাঁকা মাঠে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। মুক্ত হয়ে সেখান থেকে ইদ্রিস আলী লিবিয়ায় অবস্থানরত তার পার্শ্ববর্তী গ্রামের পরিচিত একজন লোকের কাছে গিয়ে বিস্তারিত ঘটনা খুলে বললে ঐ ব্যক্তি তাকে আশ্রয় দেন এবং তাকে দেশে ফেরত আসতে সার্বিক সহায়তা করেন। দেশে ফিরে ইদ্রিস আলী এবং এলাকের পরামর্শগ্রহনকারী আব্দুর রউফসহ অন্যান্যরা টিআইবি’র লালমনিরহাট কার্যালয়ে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতার জন্য এলাক ফ্যাসিলিটেটর-এর নিকট কৃতজ্ঞতা জানাতে  হাজির হন ।                                    

   

মিজানুর রহমান,

ফ্যাসিলিটেটর,  

অ্যাডভোকেসী এন্ড লিগাল অ্যাডভাইস সেন্টার (এলাক)  

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year