pic_ms_iacd7_16_en.jpg

যেভাবে জেলখানায় গুনোর শিক দিয়ে টাকা দেওয়া হয় আসামী ও জেল পুলিশকে!

User Rating:  / 8
PoorBest 

জেলখানার বন্দি মানুষের জীবন কিভাবে কাটে তা দেখার শখ ছিলো বহুদিনের। কিছুদিন আগের কথা - আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে সুরুজ ভাইয়ের সাথে দেখা - তিনি বললেন,  জেলখানায় যাবা নাকি, আমার এত ভাইকে দেখতে?

 

আমার জন্য এটি একটি ভালো প্রস্তাব ছিলো। আমি সুযোগটি গ্রহন করলাম। বললাম,  যাবো।

এটি বাগেরহাট জেলা কারাগারের ঘটনা। 

প্রথমে জেলখানার গেটের পাশে একটি দোকানে মোবাইল রাখলাম। কারন- ভেতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নিষেধ। ভিতরে ঢুকে ভাইয়ের সাথে পাশ আনতে। পাশ যিনি দিবেন, তার কাছে গেলে বলছেন এখন বেলা শেষ পর্যায়ে এখন তো দেওয়া যায়না। তিনি বললেন - আসামীর নাম কি, আপনার নাম, কি করেন,  এত দেরি করলেন কেন?  ইত্যাদি বিভিন্ন রকম কথা বললেন।  তারপর বললেন - মসজিদের উন্নয়নে ১০ টাকা দেন। একটি বাক্স রাখা ছিল, তার ভিতর দিতে বললেন।

 

এরপর আমরা ভিতরে গেলাম। ভিতরে গিয়ে অনেক মানুষের সমাগম। আসামীদের আত্বীয়- স্বজনদের ভিড় ছিল। আমরা কাউন্টারে আসামীর নাম জমা দিলাম এবং ভিতরে অপেক্ষা করতে লাগলাম তার সাথে দেখা করার জন্য।

এবার মুল কথায় আসি- " কিভাবে চিকন গুনোর শিক দিয়ে টাকা দেওয়া হয় এবং কর্মরত জেল পুলিশ কমিশন গ্রহন করে" ।

আমরা প্রায় ৪৫ মিনিট সেখানে অবস্থান করছিলাম।

এই ৪৫ মিনটে আমার নিজের দেখা কিছু কর্মকান্ড সবার মাঝে তুলে ধরতে চাই। আমি জানিনা ভেতরে আসামীদের টাকা দেওয়ার কেমন নিয়ম রয়েছে।  এখানে যা দেখলাম তা হলো- যদি কেউ টাকা দিতে চাই ; তাহলে কারাগারের ভিতর দায়িত্বরত একজন জেল পুলিশ থাকে এবং তার হাতে ' গুনোর শিক' থাকে। তাকে অবগত করতে হয়, তারপর ঐ পুলিশ গুনোর শিকটি বাইরে পাঠিয়ে দেয় এবং আসামীর স্বজনেরা যে টাকা দিবে সেটি ঐ শিকে পেচিয়ে দেয়। তারপর ঐ পুলিশ তার নিজের হাতে টাকা গ্রহন করে।  ঐ টাকা থেকে তার বকশিষ নিয়ে নেয়। একটু জানানো দরকার - বকশিশটা কেমন পরিমান।

আমার চোখে দেখা যে কয়টি এমন চিত্র দেখলাম - তাতে একজন ৫০০ টাকা দিলে সেখান থেকে ২০০ টাকা রেখে দিলো পুলিশ। একজন ১৫০০ টাকা দিলে সেখান থেকে ৪০০ টাকা রাখা হলো। একজন ৩০০০ টাকা দিলে সেখান থেকে ৬০০ টাকা রাখা হলো। আরো কয়েকটি লেনদেন ছিলো ৫০০ টাকার নিচে সেখানে থেকে ১০০ টাকা করে রেখে তারপর বাকি টাকা দিতেন জেল পুলিশ।  

মোটামুটি ভাবে এই অল্প সময়ের ভিতর এই চিত্রগুলো চোখে পড়ল। তাহলে সারাদিন ঐখানে কেমন অবস্থা থাকে একটু ধারনা করে নিবেন।এই চিত্রগুলো দেখছি আর ভাবছি- আমার কি করা উচিৎ?  এখনো একই প্রচ্ন আমাকে বিচলিত করে। এখানে দুই পক্ষের সমান লাভের চিত্র ছিল, আর বিষয়টি মনে  হলো - সহজে আসামীর কাছে টাকা পৌছে দেওয়ার জন্য কোন ঝামেলা ছাড়াই সহজে টাকা পৌছে দেওয়া যায়। আর মানুষ ঝামেলা এড়ানোর জন্য এটি করে থাকে।  অফিসিয়াল নিয়মটি সাধারন মানুষের কাছে জটিল করে তুলে ধরার কারনে কেউ ঐ ঝামেলায় আসামীকে টাকা দিতে চাই না। তাই, মানুষ এই কমিশন দিয়ে আসামীর কাছে টাকা পৌছে দিতে কোন আপত্তি করে না। 

এটা এক ধরনের win win game এর মত।

তাহলে - এটি কি ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি?  

নিজের মনে এই প্রশ্নটি রেখে অবশেষে জেলখানার ভিতর থেকে বেরিয়ে আসলাম। 

সবশেষে একই প্রশ্ন বা আমাদের কি করা উচিৎ? মুল্যবান মন্তব্য আশা করি!

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year