pic_ms_iacd7_16_en.jpg

১০০ টাকা ঘুষ গ্রহন করার দায়ে সাসপেন্ড হলেন পুলিশের এক সদস্য !!

User Rating:  / 6
PoorBest 

মাত্র ১০০টাকা ঘুষ গ্রহণের কারনে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হন লালমনিরহাটের এক পুলিশ সদস্য। লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার রাশিদুল হক প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে উক্ত পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করেন।

সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামের ২৩ বছরের মেয়ে রাজিয়া সুলতানা। গত ৪ অক্টোবর’১৬ তারিখ গভীর রাতে পুলিশ তাদের বাড়ির আঙ্গিনার গেট ভেঙ্গে তার বাবা মোঃ রফিকুল আলমকে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভেতরে ঢুকে। পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার বাবাকে গ্রেফতার করতে গেলে সাহসী মেয়ে রাজিয়া পুলিশকে জিজ্ঞেস করেন তারা কি অপরাধে গ্রেফতার করতে এসেছে? তাদের কাছে কোন ওয়ারেন্ট আছে কিনা? পুলিশ এর জবাবে বলেন, দীর্ঘদিনের বিদ্যুতের বকেয়া বিল পরিশোধ না করার অপরাধে বিদ্যুত বিভাগের করা মামলায় তার বাবার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরওয়ানা জারী করা হয়েছে। প্রতিউত্তরে তারা বলেন যে, বিদ্যুতের সকল বকেয়া বিল পরিশোধ করা হয়েছে এবং বিচ্ছিন্ন করা সংযোগ পুনরায় পাওয়ার দাবী করে এর প্রমান হিসেবে পরিশোধ করা সকল বিলের কাগজ দেখাতে চাইলে পুলিশ তাদেরকে পরদিন থানায় যোগাযোগ করতে বলেন এবং তার বাবাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

পরদিন রাজিয়া নিকটাত্মীয়দের কয়েকজন এবং তার বন্ধু হাফিজকে নিয়ে থানায় যান এবং সেখানে গিয়ে জানতে পারেন পুলিশ তার বাবাকে ঐদিনই আদালতে হাজির করতে যাচ্ছে। আদালতে তুলতে দেরী হওয়ায় তার বাবাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। রাজিয়ার বাবা হাজতখানায় থাকা অবস্থায় তার বাবার জন্য দুপুরের খাবার কিনে তার বাবাকে খাবারের প্যাকেটটি পৌঁছানোর জন্য হাজতখানার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশকে অনুরোধ করলে তাদের কাছ থেকে ২০০/- টাকা দাবী করে। কিন্তু তারা টাকা দিতে আপত্তি জানালে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যও খাবার নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এমতাবস্থায় রাজিয়া এবং তার বন্ধু হাফিজ টিআইবি’র এলাক ফ্যাসিলিটেটর এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করেন এবং এক্ষেত্রে আইনী পরামর্শ প্রত্যাশা করেন।

তাদেরকে এই মর্মে পরামর্শ প্রদান করা হয়, যেহেতু বিদ্যুৎ বিভাগের মামলাগুলোর জামিনের ক্ষেত্রে লালমনিরহাট জজ কোর্টে করার সুযোগ নেই অতএব বিদ্যুৎ বিভাগের মামলা নিস্পত্তি বা জামিনের জন্য রংপুরে অবস্থিত আলাদা ট্রাইবুনালের মাধ্যমে উক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। অপরদিকে, আদালতের হাজতখানায় থাকা অবস্থায় আসামীদের খাবারের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এবং বাইরের লোকের দেয়া খাবার আসামীদের খাওয়ার জন্য সরবরাহ করা আইনসম্মত নয়। তবে উল্লেখ্য যে, আসামীদের খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতার কারনে লালমনিরহাটের মাননীয় জেলা জজ সাহেবের অনুরোধের প্রেক্ষিতে জেলা পুলিশ সুপার মহোদয় হাজতখানার বাহির থেকে আতœীয় স্বজনের সরবরাহকৃত খাবার প্রদানের ক্ষেত্রে শিথীলতার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে কোন ধরনের টাকা লেনদেন করা বৈধ নয়। অতএব, হাজতখানার যে পুলিশ সদস্য টাকা (ঘুষ) নিয়েছেন তার বিরুদ্ধে উক্ত বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ করার জন্য বলা হয়। পাশাপাশি প্রমান রাখার জন্য পুলিশের সাথে কথোপকথন ও টাকা লেনদেনের অডিও বা ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করে রাখতে বলা হয়।

পরামর্শ অনুযায়ী রাজিয়া ও তার বন্ধু হাফিজ আবারও উক্ত পুলিশ সদস্যকে খাবারের প্যাকেটটি পৌঁছে দেয়ার অনুরোধ করলেও টাকা ছাড়া পুলিশ পৌঁছে দিতে রাজি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে উক্ত পুলিশ সদস্যকে ১০০ টাকা দিতে হয় এবং এর বিনিময়ে পুলিশ খাবার পৌঁছে দেয়। টাকা লেনদেনের কথোপকোথনসহ পুরো ঘটনাটি কৌশলে গোপনে ভিডিও করেন রাজিয়া।

পরদিন তারা লালমনিরহাটের সচেতন নাগরিক কমিটি-সনাক সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আজীজুল হক (বীর প্রতীক) ও টিআইবি’র এলাক কর্মকর্তা কে সাথে নিয়ে সরাসরি পুলিশ সুপার রাশিদুল হক মহোদয়ের কার্যালয়ে অভিযোগ নিয়ে হাজির হন। রাজিয়া ও হাফিজের নিকট পুরো ঘটনাটি শুনে এসপি মহোদয় তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যসহ আদালতের শৃংখলা ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের ইনচার্জকে তলব করেন। কিছু সময়ের মধ্যেই উক্ত পুলিশ সদস্যদ্বয় এসপি মহোদয়ের কার্যালয়ে হাজির হন। এসপি মহোদয় ঘুষ গ্রহনকারী উক্ত পুলিশ সদস্যকে অভিযোগকারীদের মুখোমুখি করে ঘুষ গ্রহনের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতার প্রকাশ পায় যার ফলে এসপি মহোদয় এবং উপস্থিত অন্যান্য সকলে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন। ঘটনার বিস্তারিত বিষয় জানার পর অভিযোগকারীদের লিখিত অভিযোগ গ্রহন করেন এবং এসপি মহোদয় ঘুষ গ্রহনকারী উক্ত পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করেন এবং আদালতের পুলিশের ইনচার্জকে শক্তভাবে সতর্ক করে দেন। পুনরায় এ ধরনের কর্মকান্ডের অভিযোগ আসলে তার বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

অন্যদিকে রাজিয়ার বাবা প্রয়োজনীয় আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রংপুরে অবস্থিত বিদ্যুত সংক্রান্ত আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি লাভ করেন।

 

Comments   

 
0 #1 live 22 2019-05-30 05:05
After looking at a handful of the blog articles on your
web site, I really appreciate your way of blogging.
I book marked it to my bookmark website list and will be checking back in the near future.
Take a look at my website too and let me know what you think.



My website :: live 22
Quote
 

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year