pic_ms_iacd7_16_en.jpg

প্রতি পদক্ষেপই হতে পারে অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা

User Rating:  / 0
PoorBest 

‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র’ কথাটির মধ্যে একটি শক্তিশালী বাস্তবতা লুকিয়ে আছে। কিন্তু আমাদের সংকীর্ণতার কারণে আমরা সবার ছাত্র হতে পারি না। তাই আমাদের চারপাশেই জ্ঞানের, শিক্ষার অপার সুযোগ থাকা সত্বেও আমরা তা গ্রহণ করতে অক্ষম।অনেকের দায়িত্বের মধ্যে পড়া ছোট ছোট বিষয় যা খুব সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যায়, তা নিষ্ঠার সাথে করতে দেখে, ছোট ছোট ভুল ধরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে যে শিক্ষা গ্রহণ করা যায় সে শিক্ষার গ্ররুত্বও কম কিসে।

এমনি শিক্ষার একটি সম্ভাবনাময় জায়গা হলো টিআইবি। টিআইবর সাথে কাজ করা মানুষগুলো যেন এক একজন চলন্ত শিক্ষা। না, সবার সাথে পরিচয় কিংবা মেশার সুযোগ হয়নি কিন্তু যে ক’জনের সাথে হয়েছে তাতেই আমার ভালো লেগেছে। রাজশাহী সচেতন নাগরিক কমিটির সাথে সম্পৃক্ত মানুষগুলোকে দেখেও বেশ মুগ্ধ হই। এমনই কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করছি।

ঘটনা-১ : টিআইবি রাজশাহী মহানগর সনাকের এরিয়া ম্যানেজার মাহমুদ আলী ভাই। ভাইয়ের অফিসের কাজের জন্য একটি মোটরবাইক আছে। তো বরাবরের মতো অফিসে ঢোকার সময় দেখলাম ভাইয়েল বাইকটা নির্ধারিত যায়গায় রাখা আছে। তারপরের দিনও দেখলাম ভাই বাইক নিয়ে এসেছেন এবং এআই ডেক্স এর জন্য আমাকে বাইকে করে রাজশাহী শিক্ষার বোর্ডেও নিয়ে গেলেন।

 তারপরের দিন দেখলাম ভাইয়ের সাথে বাইক নেই। আমি জানতে চাইলাম ভাই বাইক কই? ভাই বললেন লাইসেন্স এর মেয়াদ শেষ হয়েছে তায় নিয়ে আসিনি। দু’এক দিনের মধ্যেই হয়ে যাবে। দীর্ঘদিন রাজশাহী থাকার সুবাদে যা বুঝেছি তা হলো শান্ত-শিষ্ট এই শহরে মাহমুদ ভাইয়ের বাসা থেকে অফিস পর্যন্ত মোটর বাইক আনা আসলে কোন সমস্যাই না। তবুও তিনি এই সামান্য ‍সুযোগটুকু নিতে রাজী নন।

ঘটনা-২: রাজশাহী সনাকের হিসাব বিভাগের আশরাফুল হাবীব ভাই। বেশ হাসি-খুশি মানুষ। একদিন শুক্রবারে আমরা ইয়েসরা মিলে গিয়েছি রাজশাহী মেডিকেলে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ করার জন্য। সাথে আছেন আশারাফুল হাবীব ভাই। আমাদের কাজ প্রায় শেষের দিকে চলে আসলে আমাদের এক ইয়েস বন্ধুর একজন গেস্ট আসলেন। তিনি আমাদের জন্য কিছু সময়ও ব্যয় করলেন।

কাজ শেষ করার পরে আমরা লান্স করব একসাথে। তো ইয়েস সদস্যের সাথে তার গেস্ট কেউ আমন্ত্রন জানানো হয়েছে। আমাদের ইয়েস বন্ধুটি একটু বিব্রত বোধ করছে। অত:পর খাওয়া দাওয়ার পরে দেখলাম হাবীব ভাই আগেই নিজের ম্যানিব্যাগ থেকে একজনের বিল বের করে দিয়ে দিলেন। অন্যদের জন্য রশিদ নিয়ে নিলেন। বিষয়টা অন্য সকলের দৃষ্টি গোচর হলেও আমার হয়নি। সম্মানের ধাপটা বেড়ে গেল। কারণ সোজা কথা হলো এ সকল বিষয় চাইলে খুব সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু এই মানুষগুলো এমন বিষয়গুলোতে খুব সেনসেটিভ।

ঘটনা-৩ : আইসিটি ট্রেনিং করানোর জন্য ঢাকা অফিষ থেকে এসেছেন আউটরিচ এন্ড কমিউনিকেশনের মর্তুজা আশীষ ভাই ও বাবু ভাই।গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে কমিউনিকেশনের উপরে আমার বেশ আগ্রহ আছে। ট্রেনিং শেষ হওয়ার দিকে আসলেন আউটরিচ এন্ড কমিউনিকেশনের সাবেক উন্নয়ন কর্মী ও বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েল গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মামুন আব্দুল কাইয়ূম স্যার । আমার কাছের ও পছন্দের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক।

 স্যার আমাকে বললেন তুমি কি সারাদিন এখানেই ছিলে। আমি বললাম জি। তারপরে বললাম স্যার আজতো ক্লাসটা মিস করলাম পারসেনটেজ টা দিয়ে দিয়েন। তাৎক্ষনিক মর্তজা ভাই বললেন ‘দুর্নীতি’। এটাও কিন্তু দুর্নীতি। আমার টনক নড়ে উঠল। এমনিতে স্যার আমাকে পারসেনটেজ টা দিতেন না। শুধু বলার জন্য বলা। কিন্তু এটাও যে বলা ঠিক হয়নি তা বুঝলাম।

এমনি প্রতিমূহূর্তে উনাদের কথা-বার্তা, কাজের মধ্যে বিশেষ কিছু খুঁজে পেয়েছি। হোজ্জাতুল সোহাগ ভাইয়ের ট্রেনিং করেছি, রেজা ভাইয়ের কথা শুনেছি, ময়মনসিংহের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোস্তফা ভাইয়েল সাথে গবেষনার কাজ করেছি, শাম্মী আপা, লিপি আপা, অসিম ভাই সবার আন্তরিকতার মধ্যে যেন একটা বিশেষ কিছু খুঁজে পাই। এই পাওয়া হোক আমার-আমাদের এগিয়ে চলার পথ। 

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year