pic_ms_iacd7_16_en.jpg

চিন্তায় যখন দুর্নীতি, মুক্তি মিলবে কিসে!

User Rating:  / 1
PoorBest 

ফরাসি বিপ্লবের মধ্য দিয়েই মুক্ত চিন্তা ও লেখা-লেখির পথ সুগম হয়। সময়ের বিবর্তনে শিল্প বিপ্লবের শুভসূচনা হয় যার অনূঘটকগুলো ছিল ইঞ্জিন এবং রেলপথ তথা চাকার আবিষ্কার। শুরু হল ভিক্টোরিয়ান প্রিয়ড। ব্রিটিশদের উন্নয়নের ইতিহাসে ভিক্টোরিয়ান প্রিয়ড স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচিত যখন তারা প্রায় অর্ধপৃথীবি শাসন করত। বিভিন্ন শাসিত অঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমান অর্থ আসা শুরু হল, রাজধানী লন্ডন কে ঘিরে শিল্প কারখানা গড়ে উঠল, অর্থব্যবস্থা কৃষি থেকে শিল্পে রুপ নিল। উপছেপড়া মানুষগুলোর স্থান সংকুলান করতে শহরের ফুটফাতে আশ্রয় নিল, গড়ে উঠল হাজারো বস্তি, ঘিঞ্জিতে পরিণত হল রাজধানী লন্ডন, আর ট্রাফিক হয়ে উঠলো নিত্য দিনের সংঙ্গী। সেই আসা অর্থ কড়ি দিয়ে অভাব গুচা শুরু হল, নারীরাও ফ্যাশন শব্দটাকে বেচে নিল এবং খুব সুন্দর করেই রুপ চর্চা আর্টে পরিণত হল (উতসঃ ইংরেজী সাহিত্যের ইতিহাস বাই সাবিদিন ইব্রাহীম)।

আজকের ঢাকা সেই ভিক্টোরিয়ান প্রিয়ড এর লন্ডন বললেই চলে! তাদের অর্থ উপনিবেশগুলো থেকে আসলেও আমাদের আসে প্রায় ১.৫ কোটি বিদেশি শ্রমিক শ্রেনীর রেমিটেন্স থেকে। ওরা উপনিবেশগুলো থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে শিল্পকে কাজে লাগিয়ে পণ্যতে রুপান্তরিত করত। আমরাও বিদেশিদের দেওয়া ফেব্রিক্স দিয়ে গার্মেন্টস শিল্পের ব্যাবহার করে পোষাক উৎপাদন করে রপ্তানি করছি আর প্রতিনিয়ত অর্থের চাকা সচল রাখছি। একইভাবে আমাদের নারীরাও আজকে রুপচর্চাকে আর্টে পরিণত করেছে, বেড়েছে পার্লার ব্যাবসা। আর ঢাকার চিত্র! সেই বস্তি, জ্যাম, ঘিঞ্জি- সবই আছে। এককথায় আমরাও যে উন্নয়নেরপথে এগুচ্চি তাতে কোন সন্দেহ নেই।

দুঃখের ব্যাপার হলো তাদের দেশে উন্নয়নের সাথে সাথে চিন্তা চর্চার লোকের সংখ্যা দৃশ্যনীয় যারা বিভিন্ন সংকট মুহূর্তে চিন্তাচচ্চার মাধ্যমে দেশের হাল ধরেছেন, আর নিজ দেশের জ্ঞান ভান্ডারকে সমৃদ্ধশালী করেছেন। এই যায়গাটকুতে আমাদের অবস্থান খুবি নাজুক! গতদিনে আব্দুর রাজ্জাক, আহমদ ছফা বা হুমায়ন আহমদে স্যারদের মত কিচু চিন্তাশীল লোক থাকলেও আজ তার বড়ই অভাব। অর্থ নামক শব্দটি আজকে জাতির কাছে আজ প্রধান হয়ে উঠেছে। রাতের আঁধারে ছাত্রদের অবস্থা পর্যবেক্ষন করতে হাতে হারিকেন নিয়ে শিক্ষক জাতিকে দেখা যায়না, তবে হ্যাঁ- পলিটিক্যাল ব্যানারে প্রথম সারিতে বসে থাকতে আর প্রমোশন নিয়ে নিজেদের মাঝে ঝগড়া করতে দেখা যায়! চাঁদনী রাতে প্রাজাদের অবস্থা দেখতে পলিটিক্যাল লিডারদের দেখা না গেলেও দিনের আলোতে ক্ষমতার লিপ্সায় মানুষ মারার নেতৃত্বে দেখা যায়! ছাত্রকুল নিজেদের জ্ঞান পিপাসু না করে ভাবেন কিভাবে সরকারী চাকর হওয়া যায়, কারণ তারাইতো আজকের জমিদার! মাস শেষ হলে পিতা-মাতা সন্তানের কাছে প্রত্যাশা করে মোটা স্যালারির টাকা, একবারের জন্যও জানতে চায়না সেই টাকার উৎস কি! ব্যাবসায়ীরা বুঝে সিন্ডিকেট, সামাজিক সেবার মাধ্যম নয়।!

একইভাবে তাদের উন্নয়নের সাথে সাথে মানুষগুলোও বদলে গেছে, নিতি-নৈতিকতাতে শ্রেষ্ঠ জাতির পরিছয় দিয়েছে। আর আমরা! দিনে দিনে নিতি-নৈতিকতা বিবর্জিত এক জাতিতে পরিণত হচ্ছি। যুব সমাজ আজ বিশ্বাস করে টাকা ছাড়া চাকুরী হয়না তবে তা আয় করতেও বেশি সময় লাগেনা, গুটি কয়েকদিনের ইনভেষ্ট মাত্র! উন্নয়নের সাথে সাথে আমরাও অর্থলিপ্সু মানসিকতার এক উন্নত জাতিতে রুপান্তরিত হচ্ছি! বলতেই হয়, ‘কুইনিন জ্বর সারাবে বটে কিন্ত কুইনিন সারাবে কে! তবুও এই বিশাল সংখ্যক স্বপ্নচারী যুব সমাজকে নিয়ে আমি আশাবাদী, কারন যত স্বপ্ন আছে তা তো এই দেশকে ঘিরেই। উন্নয়ন হোক পরিবেশ বান্ধব, উন্নত চিন্তা হোক যুব সমাজের ভাষণা, পরবর্তী প্রজম্ন বেড়ে উঠুক নিরাপদে, আর দেশটি হোক বিশ্বের রোল মডেল।

Comments   

 
0 #2 Kazi Abusaleh 2016-12-09 16:00
Quoting Md. Suruj Khan :
চমৎকার লিখেছেন ভাই

ধন্যবাদ ভাই :-)
Quote
 
 
0 #1 Md. Suruj Khan 2016-12-09 08:08
চমৎকার লিখেছেন ভাই
Quote
 

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year