pic_ms_iacd7_16_en.jpg

আর কত দেখবো?

User Rating:  / 2
PoorBest 

উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে 15,15,815 জন মানুষের বসবাস বাগেরহাট জেলায়। এই জেলার সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র হচ্ছে “বাগেরহাট সদর হাসপাতাল।” সাধারণত সরকারি হাসপাতালে সেবা গ্রহণের নিমিত্তে দরিদ্র জন সাধারণের আগমণ ঘটে। যারা মোটা অংকের ফিস দিয়ে প্রাইভেটভাবে ডাক্তার দেখাতে সমর্থ নন, তারাই প্রতিনিয়ত এখানে আসেন। গত 09.10.2016 তারিখ রাত আটটার দিকে ব্যক্তিগত কারণে সদর হাসপাতাল গিয়েছিলাম। বের হওয়ার সময় চোখ আটকে যায় নারী ও শিশুদের টিকিট কাউন্টারের উপরে কম্পিউটার কম্পোজ করে লেখা “অত্র হাসপাতালে কোন শিশু কনসালটেন্ট নেই”। এর মানে কি দাঁড়ায়? যে সকল শিশুর অবস্থা মারত্মক তাদের হয় প্রাইভেট ক্লিনিকে দেখাতে হবে নয়ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হবে। কিন্তু সব শ্রেণির মানুষের পক্ষে তো আর গাড়ি ভাড়া করে খুলনা যাওয়া সম্ভব না আবার ক্লিনিকেও দেখানো সম্ভব না। তাহলে দরিদ্র সাধারণের বাঁচার অধিকার কোথায় একবার ভেবে দেখা অবশ্যই দরকার।
টিআইবি’র এক প্রতিবেদনে দেখে ছিলাম, এই দেশে এক বছরে যে দুর্নীতি হয়, তা দিয়ে কয়েক হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় বা হাসপাতাল তৈরি করা সম্ভব। তাহলে অবশ্যই দুর্নীতি না হলে ঐ টাকা দিয়ে কয়েক হাজার ডাক্তারের বেতন দেওয়া কি অসম্ভব হতো। অবশ্যই না!
আমাদের সিস্টেমে কিছু সমস্যা থেকেই যাচ্ছে, যা রোধ করা হচ্ছে না বা সমস্যা দূর করাকে আমরা বোঝা ভেবে ধারে-কাছে যাই না। গত তিন/চার বছর আগে ঈদের আগের দিন বাড়ির পাশের এক ছেলেকে সাপে কামড়ালো। ছুটলাম সদর হাসপাতলে তার সাথে। নার্স না দেখেই বললো, সাপে কামড়ানোর পর যে ইনজেকশন দিতে হয়, তা এই হাসপাতালে নেই। 250 বেড (খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) যেতে হবে। বললাম, ‘ডিউটি ডাক্তার কই? আপনি-ই যদি সব চিকিৎসা দেন তো ডাক্তারের দরকার কি।’ ডাক্তার দেখে বলল, বিষাক্ত সাপ না, সমস্যা নেই ভর্তি করান। বললাম, এখানে নাকি ইনজেকশন নাই। প্রতিউত্তরে বললো, হ্যাঁ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া থাকে না।
এখন কথা হচ্ছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো শহরে আর সাপের উপদ্রব বেশি মফস্বল আর গ্রামে। আম্মুকে নিয়ে যখন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছিলাম তখন এক সাপুড়েকে দেখেছিলাম সাতক্ষীরা থেকে রেফার করা, আনার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সৃষ্টিকর্তার ডাকে সাড়া দিলেন। এই হলো সিস্টেম, ইনজেকশন সদর হাসপাতালে না শহরে থাকবে।
একবার শুনলাম, দাঁতের ডাক্তার জেলার সদর হাসপাতাল পায় নি, পেয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সিএস ডিপুটিশনে তাকে সদর হাসপাতালে এনেছেন কারণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী আসে সপ্তাহে একটা। সিএস এমন না করলে,  ডাক্তার হয়তো ডাক্তারি ভুলে মুরগির ফার্ম করতে চলে যেত।
বাগেরহাট সদর হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নিত করা হলো, কিন্তু লোকবল বাড়ানো হলো না। বরং যে ডাক্তার আছে তাতে ৫০ শয্যা না, ২৫ শয্যা হলে চিকিৎসা সেবা ভালো দিতে পারে। তারপর আবার নেতাদের চোখ রাঙানি তো হজম করতে হয় ডাক্তারদের।
একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের এমন হাল কখনোই কল্পনা করা যায় না, যা বাস্তবে ঘটছে। ধৈর্য্যচূত্যি ঘটাবো না, শুধু একটি গল্প বলবো, গল্প না বাস্তব জানি না –মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহম্মদ ক্ষমতায় থাকাকালীন অসুস্থ, চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যেতে হবে। তিনি বললেন, কেন, ডাক্তার নেই? কর্মকর্তারা জানালেন ডাক্তার আছে, যন্ত্রপাতি নেই। বললেন, আমি সিঙ্গাপুর যাবো কিন্তু আমার দেশের সকল জনগণ কি যেতে পারবে? যন্ত্রপাতি আনাও, যদি বাঁচি তো চিকিৎসা হবে না হলে জনগণ চিকিৎসা পাবে।
আর আমার দেশের সোনার মন্ত্রীরা সর্দি লাগার আগেই বিদেশ যায়। তারা শুধু ছুতো খোঁজে বিদেশ যাওয়ার। যে দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয় না, সে দেশে যায় দুর্যোগের প্রশিক্ষণ নিতে, শুধু তাই না, সাথে যায় স্ত্রী-সন্তানও। আর কত!!!!

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year