pic_ms_iacd7_16_en.jpg

উন্নত মন ভুল উত্তর দেয় না

User Rating:  / 3
PoorBest 

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ শিশু এবং তরুণ (-২৫ বছরের )। আর এই সূচক থাকবে প্রায় ২০৬০ সাল পর্যন্ত। সে জন্য এই সময়টাকে বাংলাদেশের উন্নয়নের মোক্ষম সময় বলে ধরা হচ্ছে। অর্থাৎ উন্নয়নটা আসবে তারুণ্যের হাত ধরে। কিন' এই তরুণ সমাজ যদি অশিক্ষা-কুশিক্ষায় ভরে যায় ? যদি বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে জড়িয়ে পড়ে ? যদি রাজনীতির ছায়াতলে যেয়ে রাজনৈতিক সন্ত্রাসীতে পরিণত হয় ? যদি দুর্নীতির আশ্রয়দাতা হয় ? যদি শিশু নির্যাতন, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং ও অন্যান্য অনৈতিক কাজের বাহক হয় তবে কি এই দেশ ভর্তি তরুণদের উন্নয়নের হাতিয়ার বলা যাবে ?

যদি আমরা আজকের দিনের তরুণদের দিকে তাকায় তাহলে দেখা যাবে যে, তাদের চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সহিংসতা এবং যৌনতা। পত্রিকা পড়ার সময়ে মারামারি-কাটাকাটির সংবাদের দিকে আমাদের আগে নজর যায়। ধর্ষণ-নারী নির্যাতন , খুন-গুমের খবরটা আমরা আগে পড়ি।

সিনেমা দেখার সময়েও আমার সহিংস ও আবেদনময়ী সিনেমার দিকে বেশি আগ্রহ দেখায়। হিন্দি, ইংলিশ, তামিলসহ বিভিন্ন সহিংস ও আবেদনময়ী সিনেমা আমাদের কাছ থেকে বাহবা কুড়ায়। এই তো কদিন আগে মুক্তি পাওয়া হিন্দি ‘ সুলতান’ সিনেমা ক’জন দেখেনি বা দেখবে না ? সহিংস সিনেমা ‘ম্যাড ম্যাক্স’ , ‘ডাইভারজেন্ট’ , ‘এ ক্লাকউড অরেঞ্জ’ , ‘সিন ( ঝরহ) সিটি’ , ‘ডিরেড’ , সহ অসংখ্য সহিংস সিনেমা দেখা এই তরুণদের। যেখানে নির্দয়ভাবে মানুষ মারা বা হত্যা করা দেখাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশী পরিচালক মোরশেদুল ইসলামের ‘চাকা’ সিনেমাটা ক’জন দেখেছে। যেখানে অচেনা, কুড়িয়ে পাওয়া মৃত মানুষের প্রতিও যে মানুষের ভালবাসা জন্মতে পারে তা দেখানো হয়েছে।

মোবাইল-কম্পিউটারে শিশু-কিশোর, তরুণরা যে গেমগুলো খেলছে সেখানেও সহিংসতা। তাহলে মানবতার শিক্ষাটা আমরা পাব কোথা থেকে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদ ইস্যু নিয়ে বলা হচ্ছে এখান থেকে মুক্তির উপায় হচ্ছে সুস্থ্য সংস্কুতির চর্চা করা। কিন্তু ক’জন আমরা করছি তা ? আসলে সুস্থ্য সংস্কৃতি চর্চা কিভাবে কবর আমরা ? সুস্থ্য সংস্কৃতিতো পেতে গেলে দেখতে হবে কলকাতার বাংলা ‘জাতিস্মর’ সিনেমা। দেখতে হবে তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে’ , কিংবা তৌকির আহমেদের ‘জালালের গল্প’। ‘আউরঙ্গজেব’, ‘টিনের তলোয়ার’, ‘সক্রেটিসের জবানবন্দি’ , বা ‘রাইফেল’ এর মত মঞ্চ দেখতে হবে আমাদের। কিন' আমরা তো শিশু-কিশোর, তরুণরা সহিংস সব মোবাইল-কম্পিউটার গেম খেলছি নির্বিশেষে।

আমাদের হিন্দি সিনেমার প্রতি আগ্রহ একটু বেশি। হিন্দিতেও কিন' ‘আলিগড়’ , ‘ম্যাসান’ , ‘ট্রাফিকের’ মত সিনেমা বের হয়েছে। এখানকার তরুণরা শরৎচন্দ্রের ‘গৃহদাহ’ উপন্যাসের মহিম কেউ হতে চায় না, ‘বিপ্রদাস’ উপন্যাসের দ্বিজদাসের ব্যক্তিত্ব কেউ ধারণ করতে চায় না। আনিসুল হকের ‘দু:সপ্নের যাত্রীর’ মধ্যে কেউ জীবনের মানে খুঁজে পায় না। কোন মেয়ে সমরেশ মজুমদারের আত্মমর্যাদা সম্পন্ন দীপাবলী হতে চায় না বরং তার চেয়ে হেরে যাওয়াটাকেই শ্রেয় মনে করে। সমরেশ মজুমদারের ‘গর্ভধারিণী’ উপন্যাসের জয়িতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেই না। আর যে সব নারীরাওবা জীবন সংগ্রামে নামছে কতৃত্ব পরায়ন পুরুষ সমাজ তাদের পদে পদে বাঁধার সৃষ্টি করছে।

"ছা এবার বলি এত কথা কেনই বা বলছি আর এর দরকারই বা কি। দুর্নীতি থামাতে বা সমাজের জঞ্জাল সরাতে এত সবের কেনই বা দরকার । কারণ সর্ব প্রথমেই দরকার নিজেকে দুর্নীতি থেকে মুক্ত রাখা নিজেকে অনৈতিক কাজ থেকে দূরে রাখা। আর তার জন্য নিজেকে চিনতে হবে। কারণ আমি মনে করি ব্যক্তিগত জীবনে সকলকে দুর্নীতির সামনে পড়তেই হবে। কারো সুযোগ আসবে দুর্নীতি করার কারো দুর্নীতির শিকার হতে হবে। আর সেখান থেকে মুক্তি পেতে নিজের মনকে উন্নত করতে হবে। কারণ একজনের মনই তখন উত্তর দেবে সে দুর্নীতি করবে কি করবে না। আর উন্নত মন কখনো ভুল উত্তর দেয় না। মন/ নিজেকে উন্নত করতে বা নিজেকে জানতে সুস' সংস্কুতি চর্চার, স্বশিক্ষিত হবার বিকল্প দেখি না।

Comments   

 
0 #1 Md. Suruj Khan 2016-08-01 10:50
চমৎকার লেখা
Quote
 

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year