pic_ms_iacd7_16_en.jpg

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অসামাজিক ব্যবহার, উত্তরণের উপায় কি?

User Rating:  / 25
PoorBest 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের সামাজিক করে তোলার পাশাপাশি অসামাজিকও করে তুলেছে। এই মাধ্যমের অপব্যবহারই শুধু দায়ী নয়, আমাদের ব্যক্তি জীবনও অনেকটা দায়ী।

 সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, এটা আমাদের সম্পর্ক মজবুত করার ক্ষেত্রের কিছু কিছু সময় যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে, আমার অনুভূতি একসাথে সকল বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারছি, বিভিন্ন ইভেন্ট করে জনকল্যাণমূলক কাজ ও ন্যায্য আন্দোলনের ডাক দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
কিন্তু এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তির ফলে আমাদের একটা নির্বোধ যুব গোষ্ঠি তৈরি হচ্ছে। এদের ভার্চুয়াল লাইফ ছাড়া কোন চিন্তা-ভাবনা নেই, আবেগ-অনুভূতি নেই, দাদা মৃত্যু শয্যায় বা বন্ধুর কবর খুড়তে গিয়ে সেলফি তুলছে, রাত জেগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সারাদিন ঘুম পড়ছে, ভাটা পড়ছে লেখা-পড়ায়।
ফেসবুক হচ্ছে আমাদের দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এখন অধিকাংশ যুব শ্রেণি এই মাধ্যম ব্যবহার করে, এটা ভাল লক্ষণ যে তারা প্রযুক্তি ও বিশ্ব পরিমন্ডলে যোগাযোগ করতে পারছে। কিন্তু এটা যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার না হয়ে জঙ্গী উস্কানিমূলক তথ্য প্রচারের মাধ্যম বা জঙ্গীদের দাওয়াতের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তখন সামাজিকতার পরিবর্তে বড় বেশি অসামাজিক ও অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছে একটা শ্রেণি।
যখন ফেসবুকে একজনের একটি অরিজিনাল আইডির পাশাপাশি কয়েকটি ফেইক আইডি করা হচ্ছে নামে-বেনামে, তখন তা ভয়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ছেলেরা বিভিন্ন মেয়ের নামে আইডি খুলে প্রতারণা করছে, মেয়েদের ছবি আপলোড করে সমাজে হেয়-প্রতিপন্ন করছে, এটাতো সামাজিকতার লক্ষণ হতে পারে না।
আবার কিছু কিছু সময় পরিচয় গোপন করে ছেলেরা মেয়েদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলছে, দেখা করার নামে হচ্ছে প্রতারণা, ধর্ষণ। বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা। আবার, কোন কোন ক্ষেত্রে ছেলেদের বোকা বানিয়ে ডেকে নিয়ে ঘটছে ছিনতাই-এর মতো ঘটনা।
ফেসবুকের কল্যাণে অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ আদান-প্রদানে যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছে। তাঁরা নিউজ লিংক ফেসবুকে শেয়ার করার ফলে খুব দ্রুত সংবাদ ছড়াচ্ছে কিন্তু নিউজ পোর্টলগুলো নিয়ন্ত্রনের কোন ব্যবস্থা আছে কি না আমার জানা নেই। কিছুদিন আগে এক নিউজ দেখলাম তাহসান আর নেই। কন্ঠ ও অভিনয়সহ তাহসানের নানা গুণ থাকায়, তিনি আমার একজন প্রিয় ব্যক্তি। পোর্টালের লিংকে তার ছবি দেখে পড়তে ঢুকে দেখি এ তাহসান, সে তাহসান না। মেজাজ চরমে উঠে গেল, শুধু এই না, আরো ভূয়া ও উস্কানিমূলক নিউজ করে লিংক দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এটা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে, বিভিন্ন কর্মকান্ড গতি হারাবে, আমরা আস্থা হারাবো প্রকৃত সংবাদের প্রতিও।
ফেসবুকে পেজ একটি জনপ্রিয় জিনিস, প্রায় ব্যবহারকারী বিভিন্ন কারণে পেজ তৈরি করে তবে আমাদের ফেক পেজ, অশ্লীল পেজের অভাব হয় নেই। ফেসবুকের একজন বন্ধু জানালেন, পর্ণো সাইট বন্ধে যন্ত্রপাতি আসছে। কিন্তু এত দিনে কি অবস্থা হচ্ছে! শুধু এই না, জঙ্গী ও রাষ্ট্রবিরোধী পেজেরও ছড়াছড়ি। পুলিশ কিছু কিছু পেজ বন্ধেরও আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু নতুন পেজের তো অভাব হচ্ছে না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই অপব্যবহারে মনে হয় আমরা একটা শক্ত অবস্থানে আছি। এর জন্য এই মাধ্যমকে শুধু দায়ী করলে হবে না, পাশাপাশি দায়ী আমাদের পারিবারিক শিক্ষা, সামাজিক অবস্থা, মূল্যবোধের অভাব, নৈতিক শিক্ষার অভাব।
এই ক্ষেত্রে যদি এমন করা যায় যে, প্রতিটি ফেসবুক আইডি খুলতে এনআইডি নং, ঐ আইডিতে নিবন্ধনকৃত মোবাইল নং ও ফিঙ্গার প্রিন্ট লাগবে, পাশাপাশি কেউ চাইলেই পেজ খুলতে পারবে না। পেজ কেন প্রয়োজন, কয়জন এডমিন হবে, কোন ধরণের পোষ্ট দেওয়া হবে তার বিস্তারিত জমা দেওয়ার পর বিবেচনাপূর্বক পেজ খুলতে দেওয়া হবে। এটা সমাধানের একটা রাস্তা হলেও হতে পারে। তবে, এটাই যে একমাত্র পথ, তা কিন্তু নয়। যে পথেই হোক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
এটাকে অনেকে তাচ্ছিল্য করবে, যেমন করেছিল বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনকে। কিন্তু এর সুফল কিন্তু আসছে, জ্বীনের বাদশা বা লটারি পাওয়ার ফোন পূর্বের তুলনায় কমেছে। নিন্দুকেরা বাজে কথা বলবে, ষড়যন্ত্রকারীরা নতুন রাস্তা খুঁজবে, নানা গুঞ্জন উঠতে পারে, তবে অবশ্যই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠুক আমাদের সামাজিক বন্ধন আরো সুদৃঢ় করার মাধ্যম, আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করার স্থান, বাঙ্গালির সংস্কৃতি বিকাশ সাধনের ভার্চুয়াল জগত, আসক্তি নয় সদ্বব্যবহার হোক এই মাধ্যমের, এটাই কামনা করি।

Comments   

 
+9 #1 Kazi Mijanur Rahman 2016-08-26 21:29
সকলের সুবুদ্ধির উদয় হোক
Quote
 

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year