pic_ms_iacd7_16_en.jpg

দুর্নীতি ও আমি - ১

User Rating:  / 5
PoorBest 

বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই দুর্নীতির সাথে সহাবস্থান। নিজেরা দুর্নীতি না করলেও জীবনের কোন না কোন সময় আমরা নিজেরাই দুর্নীতির শিকার হই। তাই আমাদের দুর্নীতির সাথে জড়িত ঘটনাগুলোও অনেক বেশী। ‘দুর্নীতি ও আমি’ এই শিরোনামে আমি আমার জীবনে দুর্নীতির শিকার হওয়া এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেগুলোর প্রতিকার কিভাবে করেছিলাম তা বর্ণনা করার চেষ্টা করবো।

বছর তিনেক আগে আমি একবার ছিনতাই এর শিকার হই। ছিনতাইকারী দলে তিন জন এবং অনেক কৌশলী হওয়ার পরেও দীর্ঘকাল পরে আমি শুধু মাত্র ৩০০ টাকা ও আইডি কার্ড  এবং দৌড় দেওয়ার সময় স্যান্ডেল খুলে দৌড় দেওয়ায় স্যান্ডেল জোড়া হারাই (:P আরেকটা লম্বা কাহিনী, আরেকদিন লিখবো)। যেহেতু আইডি কার্ড হারিয়ে ফেলেছি তাই থানায় একটা জিডি করতেই হত। তাই পরের দিন জীবনে প্রথমবারের মত থানায় গেলাম। প্রথমবারের মত থানায় গেলেও আগে থেকেই খোঁজ খবর করেই গিয়েছিলাম। যার কারণে আমি জানতাম যে, জিডি তথা সাধারণ ডায়েরী করতে কোন টাকা পয়সা লাগে না। তো থানায় যিনি জিডি করছিলেন তাকে ঘটনা খুলে বললাম। তিনি সব শুনে বললেন, আপনি জিডি করেন কিন্তু শুধু মাত্র আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে এটা উল্লেখ করবেন। ছিনতাই এর কথাটা উল্লেখ করবেন না। আমার যেহেতু বেশী কিছু হারিয়েছিল না, এবং যা হারিয়েছিল তা ফিরে পাওয়ার আশাও করছিলাম না তাই সেটা আমি মেনে নিলাম। তার কথা মত সব লিখে জমা দিলাম। কিন্তু তখনও সব শেষ হয় নি। উনি বেশ কিছুক্ষণ উসখুস করে বলেই ফেললেন, জিডি করতে হলে নাস্তা পানির জন্য কিছু দিতে হবে, এই একশ টাকার মত দিলেই হবে। আমি বললাম যেই জিনিসটা ফ্রি এবং যার জন্য আপনি বেতন পান তার জন্য কেন আমি আপনাকে অতিরিক্ত টাকা দেব? কথাটায় মনে হয় উনি বেশ আঘাত পেলেন এবং মনের দুঃখে উনি আমার জিডি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন।

একশ টাকা আসলে ঝামেলা এড়ানোর জন্য আমি দিতেই পারতাম, কিন্তু ততদিনে ইয়েস সদস্য হয়ে যাওয়ার কারণে দুর্নীতিতে সচেতন ভাবে নিজেই না জড়ানোর জন্য মনস্থির করেই এসেছিলাম। আর যেহেতু এসব হতে পারে আমার কিছুটা জানাই ছিল, তাই ভাবলাম, দেখি উনাকে নাস্তা পানি করানোর জন্য আমাকে কত উপরে যেতে হয়। আমি উনার সামনে সুন্দর একটা হাসি দিয়ে রুম থেকে বেড় হয়ে থানার ওসির রুমে ঢুকে পড়লাম। ঢুকতেই উনি জিজ্ঞাসা করলেন, কি সমস্যা? বললাম, আপনার সামনের ডেস্কের অফিসার কে জিডি করার জন্য নাস্তা পানি করাতে হবে। উনি খুবই সুন্দর করে আমাকে বসতে বললেন। তারপর ফোন তুলে উনার রুমে আসতে বললেন জিডি করার পুলিশকে। তারপর আমার সামনেই বেচারাকে নাস্তা পানি করালেন। ২ মিনিটের মধ্যেই আমার জিডি গ্রহণ করে সিল মারা হয়ে গেল। ওসি আন্তরিক ভাবে দুঃখ প্রকাশ করলেন এবং পরবর্তীতে থানায় আসলে এধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে হবেনা বলেও আশ্বাস দিলেন।

আমি প্রয়োজনে আরো উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার কাছেও যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু একধাপ যেতেই সমাধান হয়ে গেল। কি আর করার।

পরামর্শ হল, পুলিশি যে কোন ঝামেলায় যেই পুলিশ আপনার সাথে ঝামেলা করছে তার ইমিডিয়েট উপরের অফিসারের কাছে যান। তার কাছে যেয়ে কাজ না হলে, তার ও উপরে যান। প্রয়োজনে ফোন করেও জানাতে পারেন। সকল পুলিশ কর্মকর্তার নাম্বার ইন্টারনেটেই পাবেন। একজন নাগরিক হিসেবে তারা আপনার কথা শুনতে বাধ্য। এবং আপনি সমস্যার সমাধান পাবেনই । একটু কষ্ট করতে হলেও দুর্নীতি সহ্য করবেন না। (পরামর্শ আমার না, একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসারেরই)। 

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year