pic_ms_iacd7_16_en.jpg

অনধিকার নয়, চিন্তাচর্চাই হোক মুক্তির হাতিয়ার

User Rating:  / 1
PoorBest 

রেঁনেসা পূর্ববর্তী সময়ে সকল কর্মকান্ডের উদ্দেশ্য ছিল পরকাল মুখিতা কিন্তু রেঁনেসা পরবর্তী সময়ে মানুষ তাদের ধর্মীয় উপাসনালয় গুলোকে যেমনি সুন্দর করে তৈরি করতে শুরু করল, তেমনি তাদের বসবাসের ঘর-বাড়ীগুলোকেও। পরকাল মুখিতা জাগতিকএ রুপান্তরিত হতে শুরু হলো।  স্থান পেলো সম্পদের প্রাচুর্য্যতা, ক্ষমতা ও অর্থের লড়াই। হ্রদ্যতাপূর্ণ ভালোবাসা পরিবর্তিত হলো ছেকায়, স্থান করে নিল বস্তুবাদ।

রেঁনেসা পরবর্তী এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথমাংশ পর্যন্ত ক্ষমতা ও অর্থের লড়াই খুব একটা পরিলক্ষিত না হলেও মুক্ত চিন্তাচর্চার জোয়ার পরিলক্ষিত হয়। পথিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল্য় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই মুক্ত চিন্তাচর্চার পথকে বেগবান করে। অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক হলেন যার সবছেয়ে প্রকৃষ্ট উদাহরন। আজকের গ্রান্ড মাস্টর নিয়াজ মোরশেদ সহ বর্তমান চিন্তাচর্চার অগ্রদূত আহমদ ছফা ও প্রফেসর আনুসজ্জামান তারই হাতের ফসল। এভাবে প্রফেসার আব্দুল হাই, ড. আহমদ শরীফ, বিদ্যাসাগর ও জাসিমুদ্দিন সহ অনেকই চিন্তাচর্চার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন এবং রেখেগেছেন যোগ্য উত্তরসূরী। আজকের চিন্তাচর্চায় নিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ কী তাদের যোগ্য উত্তরসূরী তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছেন? আর হলেইবা কতটুকু হচ্ছেন? দেখা যাক বর্তমানের কিছু হালচিত্র।

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যপিঠে কাটিয়েছি পাঁছটি বছর, ঘুরেছি দেশ-বিদেশ, সান্নিধ্য পেয়েছি বহু চিন্তা-সাধকের আর অবলোকন করেছি চিন্তাচর্চার ধরন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে আমার অভিজ্ঞতার আলোকে যা মনে হয়েছে তা হলো দেশে চিন্তা সাধকের সংখ্যা খুবই অপ্রতুল! একবুক বিশ্বাস ও বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন নিয়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি, আশায় গুলেবাড়ি হয়েছিল সেই প্রথম দিনই যেইদিন আমার প্রফেসার বলেছিলেন, “বিশ্বাস করো তোমার জন্য কোনো চাকুরী নাই বিসিএস ছাড়া”। পরবর্তী পাঁছটি বসরেও একই উপদেশ বহুবার বহু চিন্তসাধকের কাছ থেকে শুনেছি। সত্যিকারে বিশ্ববিদ্যালগুলোকে চিন্তাচির্চার তীর্থভূমি বলা হলেও চিন্তা সাধকের আজ বড়ই অভাব! জ্ঞান সাধক তৈরির পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ আমলা তৈরির কারখানায় পরিবর্তিত হয়েছে, গবেষণা আজ কাপি-পেস্ট এ সীমাবদ্ধ, পড়াশুনার দৌড় আজ MP3 তে আবদ্ধ। যেই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের চিন্তারাজ্য তৈরি করার কথা, সে কিনা আজ আমাদের আমলা বানাতে ব্যাস্ত, একবার হতে পারলেই সাথে আছে বিশাল ক্ষমতা, দূর্ণীতির চাকা ঘুরিয়ে খুব সহজেই বাড়ী-গাড়ীর ফিরিস্তি। অথচ তাইওয়ানে থাকাকালীন এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘হোয়াট আর ইউ মেজন ইন?’। জবাবে সে বলেছিলো, ‘আই এ্যম মেজর ইন এ্যকাউন্টিং’। তখন আমি বলেছিলাম, ‘আর ইউ গোয়িং টু স্টার্ট ইউর ক্যারিয়ার ইন ব্যাকিং?’। জবাবে সে বলেছিল, ‘নো, আই এ্যম গোয়িং টু স্টার্ট  মাই ক্যারিয়ার ইন ডিফেন্স এ্যজ আই এ্যম মেজর ইন এ্যকাউন্টিং ইন ডিফেন্স!’। কত চমৎকার পড়াশুনার পদ্ধতি!! আমাদের দেশের ভার্সিটি পড়ুয়া কাউকে ক্যারিয়ার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেই এককথায় উত্তর আসে বিসিএস চাই –ই-চাই! আবার যারাইবা মেধার চর্চা করেন, উচ্চতর ডিগ্রি নিতে গিয়ে বিদেশ বনে যান! এভাবে চলতে থাকলে ইন্ডিজেনাইজেশনশ-অব-নলেজ এর কি হবে!! বা বিদেশী টেক্সট বই দিয়ে আর কতদিন!!

সাধারনত ফাস্টক্লাস পজিসনধারীদের জ্ঞান চর্চার ধারক ও বাহক মনে করা হলেও আজ ৪৯ শতাংশ গ্রাজুয়েট বেকারের দেশে তারাও হতাশ। আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারাও ক্ষমতা আর প্রেস্টিজ এর লোভে মত্ত! অবাক হই যখন পজিশনধারীরা ষ্টেটাস দেয় পুলিশ হমু ইচ্ছা পোষন করে, আমার মেধাবী বন্ধুবর যখন বলে বিসিএস-ই আমার শেষ ভরসা, হতাশ হই তখন যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মহান পেশায় কর্মরত বড়ভাই বলে আমার ৩৬ এর প্রিলিতে না হওয়ায় আমি হতাশ! কিংবা চিন্তা চর্চ্চার নামে ব্রেইন ড্রেইন দেখে।

এত হতাশার মাঝে আশার আলোকছটা কোথায় বা চিন্তাবিদরা কাকে এবং কী নিয়া স্বপ্ন দেখেন? ইউএনডিপির মতে বাংলাদেশে এখন পপুলেশন ডিভিডেন্ড (১-১৪ এবং ৬০ এর উর্ধব লোক সংখ্যা ১৫-৬০ এর কম) চলছে। তার থেকে বড় কথা হলো বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৫-৩০ এর মাঝে যুবকের সংখ্যা এখন-ই সর্বোচ্চ যা চলবে ২০৬০ পর্যন্ত। সুতরাং চিন্তাচর্চার কথা বলি কিংবা অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলি, সময় এখনি আর সিন্ধান্তটা আমাদেরকেই নিতে হবে। শুধুমাত্র আতীত চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের মাঝে চিন্তাচর্চা আর শিশুদের মাজে সৃজনশীলতা বিকাশের কর্মকন্ডই হতে পারে এ জাতির মুক্রির হাতিয়ার। 

Comments   

 
0 #2 Kazi Abusaleh 2016-07-20 01:36
Quoting Md. Suruj Khan :
সবই বুঝলাম। সালেহ ভাই সঠিক পথ প্রদর্শক যেমন নেই, নেই পরিবেশ। পরিবেশ তো দুইজনে কম বেশি দেখলাম। প্রাইমারি লেবেলের বাচ্চারা যে পরিবেশ পাচ্ছে তার শত ভাগের এক ভাগও কি পেয়েছেন এই বয়স পর্যন্ত।

জি ভাই, পরিবেশতো মোটেই নেই, তবুও বলব আমরা পরিবর্তন হলে পরিবেশও পরিবর্তন হবে। আমরা পাইনি তবুও চাই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম নিরাপদে বেড়ে উঠুক।
Quote
 
 
+1 #1 Md. Suruj Khan 2016-07-19 23:49
সবই বুঝলাম। সালেহ ভাই সঠিক পথ প্রদর্শক যেমন নেই, নেই পরিবেশ। পরিবেশ তো দুইজনে কম বেশি দেখলাম। প্রাইমারি লেবেলের বাচ্চারা যে পরিবেশ পাচ্ছে তার শত ভাগের এক ভাগও কি পেয়েছেন এই বয়স পর্যন্ত।
Quote
 

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year