pic_ms_iacd7_16_en.jpg

একটি বাল্যবিবাহ যেভাবে মৃত্যুর ফাঁদ তৈরি করে

User Rating:  / 7
PoorBest 

যে বয়সে একটি কিশোরী যখন  নিজের জীবন সম্পর্কে পূর্ন ধারনা অর্জন করতে অক্ষম ঠিক তখনই কিছু অজ্ঞতা সম্পূর্ন কিছু অভিবাবক তার কন্যাদের বিয়ের পিড়িতে বসিয়ে দেয়।

আমার নিজের দেখা একটি কিশোরীর মরন ফাঁদের কাহিনী তুলে ধরবো.......

আমার নিজ গ্রামে একজন দরিদ্র দিনমজুর, সে অনেক কষ্টে অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা অর্জন করে । অজ্ঞতার কারনে ছেলে সন্তানের আশায় তার স্ত্রী ৫ টি কন্যা সন্তানের জননী হয় এবং  পনবর্তিতে একটি সর্বশেষ ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। তার পরিবারের সদস্য অনেক হওয়াতে সকলের ভরন- পোষন মেটাতে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং ঝণগ্রস্থ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায়, সে মেয়েদের বিবাহ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এতে কিছু তাকে উৎসাহ প্রদান করে। মেয়েদের লেখাপড়ার চিন্তা না করে সপ্তম শ্রেনীতে উঠার পর প্রথম মেয়ের বিয়ে দেয় । দ্বিতীয় মেয়ে যখন ৫ম শ্রেনী অতিক্রম করে মাধ্যমিকে  কেবল মাত্র ভর্তি হয়ে বান্ধবীদের সাথে স্কুলে যাচ্ছে ঠিক তখনই দ্বিতীয় মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব - আমার ব্লগ এই দ্বিতীয় কন্যাকে নিয়ে ......

 রাতারাতি বয়স ১২ থেকে ১৮ হয়ে যায় এবং কাজী সাহেব খুশি মনে বিয়ে পড়াই। এরকম ঘটনা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অহরহ প্রতিনিয়ত ঘটতেছে। যাই হোক, যার সঙ্গে বিয়ে হল- সে কিছু করেনা, এবং মাতাল ।তবে , বাবার বেশ সম্পত্তি আছে ।মোটামুটি এই অবস্থায় বিয়ে সম্পন্ন হয়। নতুন বাড়িতে গিয়ে কিশোরী বধুর সংসার জীবন শুরু হয়। মনের ভিতর পড়ালেখা করার জন্য যে সপ্ন দেখেছিলো সে সপ্ন আর পূরন হলো না। মনের ভিতর বিশাল কষ্ট নিয়ে সংসার করতে থাকে। ঐ বয়সে একটি মেয়ে চাই তার স্বামীর ভালবাসায় নতুন স্বপ্নে বুক বাধতে কিন্তু সেটিও তার কপালে জোটেেনা। কারন, তার স্বামী প্রায় সময় মাতাল অবস্থায় বাসায় ফিরতো সুতরাং স্ত্রীর প্রতি তার কোনো মমত্ববোধ ছিলনা।

অন্যদিকে তার শ্বশুর বাড়ির পরিবারের সদস্যরা তাকে দিয়ে বাসার প্রায় সব কাজ করাতো এবং কাজের জন্য তাকে মানসিক ভাবে খুব পেশার সৃষ্টি করতো।  বুকের ভিতর বিশাল কষ্ট নিয়ে এভাবে দিন অতিবাহিত করতে থাকে। বাপের বাড়ি মাঝে মাঝে এসে তার কষ্টের কথা বাবা- মা কে বলে। কিন্তু, তার মা তাকে বলে সব ঠিক হয়ে যাবে আর কয়েকটা দিন পর সব ঠিক হয়ে যাবে। বিয়ের এক বছর না যেতেই সর্বশেষ বাপের বাড়ি এসে মনের কষ্ট মায়ের কাছে খুলে বলে এবং কিছু একটা করতে বলে কিন্তু মা তাকে শান্তনা না দিয়ে উল্টো মেয়ের সাথে ঝগড়া-বিবাদ করে এবং মারধর ও করে। মনের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে জীবনের প্রতি মায়া ত্যাগ করে গলায় দড়ি পরে আত্বহত্যার পথ বেছে নেয় এবং মরণ তাকে কাছে ডেকে আনে। এখন মায়ের কথাই সত্যি হলো,  " কয়েকটা দিন অপেক্ষা কর, সব ঠিক হয়ে যাবে " । এখন সবই ঠিক হয়ে গেছে। আর কখনো মেয়ে তার কষ্টের কথা তার মাকে বলবে না।

এরকম হাজারো কিশোরী বুকে চাপা কষ্ট নিয়ে দিন অতিবাহিত করছে।  আর কত মেয়ের জীবন দিয়ে বোঝাতে হবে,  বাল্যবিবাহ একটি কিশোরীর মৃত্যূর ফাঁদে পরিনত করে???

Comments   

 
0 #2 Kazi Mijanur Rahman 2016-08-26 15:29
অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই,
আপনি পাশে আছেন বলেই পারতেছি........
Quote
 
 
+2 #1 Md. Suruj Khan 2016-07-17 10:50
এভাবে লিখে যাও, একদিন সমাধান আসবেই।
Quote
 

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year