pic_ms_iacd7_16_en.jpg

ভোগান্তির দ্বিতীয় কিস্তি

User Rating:  / 3
PoorBest 

ভোগান্তির কারণ কি বলবো তাই ভাবছি, হয় তাদের দায়িত্বে অবহেলা নয়তো অপারদর্শীতা। কিন্তু অপারদর্শী হলে বছরের পর বছর কেমন করে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে চাকরি করছে তাও ভাবনার বিষয়।
"পল্লী বিদ্যুৎ ও একজন অসহায় গ্রাহক" শিরোনামের ব্লগে আমার প্রথম ভোগান্তির কথা লিখেছিলাম। কিন্তু জানি না, ঐ শুধু ট্রেইলার ছিলো, সিনেমা তো বাকী। জানলে একবারেই ব্লগটা লিখতাম।
টাকা জমা দিয়ে আসার দ্বিতীয় দিন ফোন করলাম পরিচিত একজনের কাছে, ভাই আমার কাজটার কি খবর?
- তোর তো দুই'শ টাকা জমা দিতে হবে, সেটা দিস নাই।
- বলিস কি? রশিদ আছে আমার কাছে।
- ফটোকপি দিতে পারবি?
- কেন পারবো না? কাল পেয়ে যাবি।
পরের দিন বাগেরহাট যাওয়ার পথে সব রশিদের ফটোকপি দিয়ে গেলাম। অপেক্ষায় থাকলাম বিদ্যুৎ বিল আসার, আসলো আব্বুর নামে। আবার ফোন, ব্যাপার কি? কোন ব্যাপার না, সফটওয়্যার সমস্যা। আগামী মাসে ঠিক হবে।
আবার অপেক্ষা, বিল আসলো, আমার বাবার নাম ভুল। ফোন দিলাম, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি দিস ঠিক করে দেবো। প্রতি উত্তরে বললাম, আমারটা তুই ঠিক করবি, কিন্তু যে লোক শরণখোলা থেকে আসবে তার কি হবে? সে কত ঘুরবে? দরকার নেই, কাল আমি জিএম'র সাথে দেখা করবো। ওর উত্তর ছিলো, সেটাই ভালো হবে।
মুজতাহীদ আর আমি পৌঁছালাম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে। জিএম নেই, জ্বর তাই বাসায় চলে গেছেন। ডিজিএমের কাছে গেলাম। তিনি সব শুনে ভুল স্বীকার করলেন। কিন্তু ভুল স্বীকারই কি সব! আমি বললাম, আপনার প্রতিটি সেকশন-ই ভুল করলো। তাহলে গ্রাহক সেবার বদলে তো ভোগান্তি বাড়ছে। আমার বাড়ি যদি দূরে হতো তাহলে আমার ভোগান্তির কথা চিন্তা করুন। উনি উত্তর দিলেন, আমি এজিএম ফাইন্যান্সকে বলে দিচ্ছি, এখনই কাজটি করে দিবে।
এজিএম-ফাইন্যান্স তরুণ এক ভদ্রলোক, তরুণদের প্রতি বরাবর আমার আস্থা অনেক বেশি। বসতে বলে সমস্যা শুনলেন। আমাদের যাবতীয় কাগজ নিয়ে অর্ডার দিলেন ঠিক করে দিতে। বললেন ঠিক হয়ে যাবে, উনার উপর আস্থা পেলেও যার হাতে ফাইল দিলেন তার উপর আস্থা পাইনি। তাই বললাম, এখনই সংশোধিত একটা কপির প্রিন্ট আমাকে দেন। প্রিন্ট দিয়ে নিয়ে আসলো আগের সেই ভুলের বিন্দু মাত্র পরিবর্তন নেই। পরিবর্তন হবে না, কেননা মিটার নেওয়ার সময় ঐ নাম। বললাম, এটা আমার প্রয়োজন, আমার জাতীয় পরিচয় পত্র, ইউনিয়ন পরিষদের সনদ, জমির দলিল সবখানে একই নাম, আপনাদের এখানে ভুল তো আমি কি করবো?
এজিএম-ফাইন্যান্স ছুটলেন ডিজিএমের কাছে। তিনি বললেন, সব কাগজে যেহেতু এক, দিয়ে দেন। এবার আমি ধরলাম, আমার দাদার নাম আপনাদের হাতে লেখা ফাইলে ঠিক, প্রিন্টে ভুল। এ দায় কে নেবে? ডিজিএম বললেন, ও কিছু না, ভুল হইছে। এখনই আপনারটা ঠিক করে দেবে। দায় এড়িয়ে গেলেন।
যিনি কাজটি করবেন তার উপর আমার আস্থা নেই আগেও বলেছি। তিনি এবারও এজিএমকে অন্য পথে চালিত করতে চাইলেন। এজিএম তার কথা না শুনে কাজটি করে দিতে বললেন। আমি এজিএমকে বললাম, সে এবারও ভুল করবে। সত্যিই ভুল করলো। আবার, ঠিক করে প্রিন্ট দিতে হলো, তাকেই।
যাই ই হোক, ভোগান্তির হয়তো এ পর্ব শেষ হলো। এরপর যাবো ভূমি অফিসে নামজারি করাতে। জানি না কপালে কি আছে। পল্লী বিদ্যুতে এতো ভোগান্তি হয়তো হতো না, যদি স্প্রিড মানি দিতে পারতাম। দিতে পারতাম মানে দিলে, কিন্তু স্প্রিড মানি দেবো না। এটা আমার ন্যায্য পাওনা। আমার প্রদত্ত বিদ্যুৎ বিলের একটা অংশ দিয়ে তাদের বেতন দেওয়া হয়। আমার জন্য সে শ্রম দেয়, পরোক্ষভাবে আমি বেতন দেই, সুতরাং স্প্রিড মানি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
ভাবতে ভাবতে বাইরে বের হয়ে দেখি, পূর্বের তুলনায় বৃষ্টি বেড়েছে । ভিজতে ভিজতে দু'জনে একটি মানসিক স্বস্তি নিয়ে ফিরে চললাম আমাদের গন্তব্যে।

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year