pic_ms_iacd7_16_en.jpg

ঘুষখোরের চেয়ে ভিক্ষুকের আত্ম মর্যাদা অনেক বেশী

User Rating:  / 4
PoorBest 

ঘটনা:১
ডাকঘরে পরিবারের কিছু টাকা সঞ্চয় করা ছিলো। মেয়াদ পূর্তিতে যাবতীয় টাকা উত্তোলনের দায়িত্ব পড়লো আমার উপর। প্রথম দিন ডাক অফিসে গিয়েই বাঁধলো বিপত্তি। আমাদের পেপারস্ দেখে পোষ্ট মাষ্টার কাগজটি চিনতে পারছেন না এমন ভাব করলেন।  নতুন পোষ্ট মাষ্টার আমাকে চিনেও না, খুব ভাব নিচ্ছিলেন। পুরাতন হলে সমস্যা হতো না। যেহেতু এলাকার ছেলে পোষ্ট মাষ্টারের সেরে উপর সোয়া সের দিলাম - পোষ্ট অফিসের প্রদত্ত পেপার আপনি চিনেন না, কি জিনিস বলার পরও বুঝতে পারছেন না, নাকি আপনি এই চেয়ারের উপযুক্ত না। তিনি চটলেন কিন্তু ফল হলো না, এলাকার মুরুব্বি ছিলেন দুই-তিন জন, বিষয়টি মিমাংসা করে দিলেন।
এতো কথা বলার কারণ, এক মাস পর টাকা তুলতে গেলে পোষ্ট মাষ্টার খুব ভাল ব্যবহার করলেন। টাকা হাতে দিয়ে দাঁড়ি পাকা বয়স্ক পোষ্ট মাষ্টার বললেন,
- কিছু দিবেন না।
- কি?
- খুশি হয়ে..
- আমি খুশি হই নি।
এই কথা বলে বের হয়েছিলাম পোষ্ট অফিস থেকে।
ঘটনা:২
কলেজে মাষ্টার্সের সনদ তুলতে গেছি। মোটামুটি দৌড় ঝাঁপ করে আবেদন পত্রের কাজ শেষ করে অফিসে জমা দিয়েছি। নতুন অফিস সহকারি সনদ খুঁজে দিলো। ইয়াং একজন মানুষ বলে উঠলেন,
- যদি খুশি হয়ে...
- কি?
- খুশি হয়ে যদি কিছু......
- খুশি হয়ে কিছু করি না।
এই বলে চলে এসেছি। হয়ত লজ্জা পেয়েছে, নাও পেতে পারে।
ঘটনা:৩
রেলের কানুনগোকে সামনের উপর বলতে না পারায় তাকে উৎকোচ দিতে হয়েছিলো। একটি ব্লগে বিস্তারিত লিখেছিলাম।
ঘটনা:৪
বউ গেছে তার ননদকে (আমার মামাতো বোন) একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করতে। ফিরে এসে ঝাড়ি, আমি যাই নি কেন। কেননা, অফিস সহকারি ১৬৭০ টাকার স্থলে ১৭০০ টাকা দাবি করছে। সে দেয় নি, ১৬৭০ টাকা খুচরা দিলে অফিস সহকারি রাগী কন্ঠে বলেছে, ফরমে ভুল বা ভর্তি বাতিল হলে সে কিছু জানে না। বউও উল্টো ফাপর দিয়ে বলছে, সমস্যা হলে প্রিন্সিপাল দেখবে। শুধু তাই না, প্রিন্সিপালকে নালিশও করে এসেছে।  বরের চেয়ে একগুণ উপরে।
ঘটনা:৫
আমার সংস্থা যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় নয় হাজার লোকের ব্লাড গ্রুপিং করেছে ফ্রী। সদরের ইউএনও আমাদের দুই লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তার প্রেক্ষিতে আমরা এক লক্ষ টাকার বিল ইউপি সচিবের মাধ্যমে জমা দিয়েছিলাম, কিন্তু কোন সাড়া নেই। জানতে গেলে এ্যাকাউন্টস্ সেক্টরে বিরাট ঝাড়ি খেলাম আমি-সহ অর্থ সম্পাদক আর সাংগঠনিক সম্পাদক। আমাদের ফাইল হারিয়ে গিয়েছিল, গত দিন পাওয়া গেছে, হাত দেওয়ার সময় নেই, কখন দেখতে সময় পাবে তাও জানে না, কে পাঠিয়েছে আমাদের ইত্যাদি ইত্যাদি। বিষয়টা কিছু তো বুঝি। অনুমান ও লোকের অভিজ্ঞতা শুনে আমারও অভিজ্ঞতা কিছুটা হয়েছে। এক সময় এই সেকশন ছিলো অবৈধ টাকা লেনদেনের আখড়া। বর্তমান ইউএনও দুর্নীতি বিরোধী উপজেলা প্রশাসন গড়ার কাজ শুরু করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে যতটুকু জানি, তিনি নিজে একজন সৎ মানুষ। এই কারণে উপরি আয় বন্ধ। তাই সেকশনের কর্তা থেকে কেরানী সবার মাথা হট। আমি আমার প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ও ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়ে ইউএনওকে বিষয়টি জানালাম। তাঁর অফিস রুমে বিভিন্ন কথার ফাঁকে এ্যাকাউন্টস্ সেকশনের কর্তাকে ডেকে কারণ জিজ্ঞাসা করলে দশ মিনিটে ফাইল রেডীর কথা বলে, তারও কম সময়ে উপরে পাঠালেন। হয়তো উপরি আয় বন্ধ হয়েছে, ফাইল আটকানো রেওয়াজটাকে আয়ত্বে রাখতে এই ব্যবস্থা কিনা আমার জানা নেই।
উপরের পাঁচ ঘটনার সর্বশেষটি বাদে সবাই মোটামুটি ঘুষ বা উপরি চাইতে যথেষ্ট পারদর্শী। তাদের অন্যের কাছে অযৌক্তিক টাকা দাবি করতে লজ্জা করে না, বরং এমনও বলতে শোনা যায় - আমি বলে কম নিলাম। অন্য কেউ হলে বুঝতেন।
এরা যতটা পারদর্শী তার থেকে ভিক্ষুকরা কম পারদর্শী। এদের মতো সুন্দর করে কোন ভিক্ষুকও হাত পেতে টাকা নিতে পারে না। অনেক অসহায়, পঙ্গু, বৃদ্ধ মানুষকে দেখেছি, যারা করুণা বা দয়া না নিয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। স্বাভাবিকের চেয়ে দুর্বল হলেও আত্ন মর্যাদা আছে।
কিন্তু ঘুষখোরদের আত্ন মর্যাদা, ধর্মীয় অনুভূতি, মনুষ্যত্ববোধ কিছুই নেই। পশুর থেকেও অধম এদের জীবন।

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year