pic_ms_iacd7_16_en.jpg

পল্লী বিদ্যুৎ ও একজন অসহায় গ্রাহক

User Rating:  / 7
PoorBest 

আধুনিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু বিদ্যুৎ। আমরা যারা গ্রাম বা মফস্বলে থাকি, তারা সাধারণ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ নিয়ে থাকি, যা সবার জানা। কিন্তু এই বিদ্যুৎ অফিসে যে কত নানাবিধ ভোগান্তির পদ্ধতি চালু রয়েছে, না গেলে বোঝার উপায় নেই।
আমার বাবা বেঁচে থাকতে বাড়ি বিদ্যুৎ সংযোগ এনে গিয়েছিলেন বলে সবচেয়ে বড় ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি ঠিক-ই, বাবার মৃত্যুতে যখন নাম পরিফবর্তন করতে গেলাম তখন শুরু হলো নানা বিপত্তি। প্রথমে নিজে না গিয়ে এক বন্ধুর মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে আবেদন করি প্রায় মাস তিনেক আগে। এত এত ফরমালিটিজ মেনে আমাকে যেতে বলে বৃহস্পতিবার। আমি গেলে ও-ই বলে কাজ প্রায় শেষ, শেষ মাসের বিলটা পরিশোধ কর। পরে ঐ টেবিলে জমা দিবি, ভেবেছিলাম এইটুকু-ই তো কাজ, ব্যাপার না। কিন্তু ব্যাপার হয়ে গেল - ঐ টেবিলে গেলে তিনি একখানা কাগজ লিখে পাঠান ভিতরে, তিনি লিখে মার্ক করলেন বিলিং ম্যানেজারকে। কিন্তু সেখানে গেলে হবে না, যেতে হলো একজন এজিম-এর কাছে। তিনি বললেন, চিঠি করাতে। অন্য টেবিল হতে চিঠি করাতে হলো। এরপর সে টেবিলের লোক একটা হিসাব লিখে দিলো সাতশত পঞ্চাশ টাকা। আমি বললাম, আমার মিটারে তো তিনশত টাকা জমা আছে,
  সে টাকার কি হবো। তার উত্তর, ওটা প্রতি মাসের বিলে সমন্বয় হবে। এখন জামানতের পুরো টাকা জমা দিতে হবে। বাধ্য ছেলের মতো মেনে নিয়ে ছুটলাম  চিঠি এন্ট্রি করাতে । এন্ট্রি করার পর আবার ফিরলাম সেই এজিএম এর টেবিলে। সে স্বাক্ষর করতে গিয়ে আবার একশত টাকা সমীক্ষা ফি যোগ করে স্বাক্ষর দিলেন। ভাবলাম টাকা জমা দিতে হবে, লাইনে দাঁড়িয়ে ফিরতে হলো। কেননা বিলিং সুপার ভাইজারকে মার্ক করা। ছুটলাম সেখানে, হবে না। ওয়ান পয়েন্ট হতে হিসাব ঠিক করাতে হবে।
ওয়ান পয়েন্টে গেলে বিপত্তি। জামানতের টাকা বিলের সাথে সমন্বয় হবে না। কেন হবে না? উত্তরে বললেন, ওটা হয় না। প্রতি উত্তর, আমার বাপের তিনশত টাকা কি হবে? মনে মনে ভাবছিলাম, এখন তিনশত টাকা কিছু না, তবে ১৯৯৯/২০০০ সালে আমার বাবার রক্ত পানি করা টাকা ওটা।
উনি বললেন, ওটা জমা থাকবে। আমি প্রশ্ন করেছিলাম, এখানে টাকা জমা রেখে আমার লাভ কি?
তিনি বললেন, যদি কখনও বিল বকেয়া হয় বা লাইন কেটে দেয় - তখন সমন্বয় করবেন।
এ থেকে বুঝলাম, বাবার কষ্টের টাকা উঠাতে বিল বকেয়া রাখতে হবে অথবা যেকোন উপায়ে লাইন কাটাতে হবে। এবং পুন:সংযোগের সময় জরিমানা হিসাবে ঐ টাকা কর্তন করাতে হবে। এটা মূলত কোন নীতির আওতায় পড়ে আমার বোধ্যগম্য হলো না।
এরপর বিলিং সুপার ভাইজারের স্বাক্ষর নিয়ে, এজিএম অর্থের স্বাক্ষর নিয়ে, সদস্য ফরম ৫০ টাকা দিয়ে ক্রয় করে, পূরণ করে, ক্যাশে ৮০০ টাকা জমা দিয়ে কাজ শেষ করলাম।
এটা-ই বাংলাদেশের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র একটি কাজের বাস্তব চিত্র। এখানে মানুষের সময়ের কোন মূল্য নেই। মাননীয় ক্ষমতাসীন ব্যক্তিবর্গ, আপনারা প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে পদ্মা সেতু করছেন - এটা অন্তর থেকে বিশ্বাস করি যে, পদ্মা সেতু আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে, পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির হার বাড়াবে।
তবে, এই সকল জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যদি টেবিল চক্র বন্ধ করা যায়, কম্পিউটারাইজড ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তবে প্রবৃদ্ধি বাড়ার পাশাপাশি স্বচ্ছতা আসবে।
পল্লী বিদ্যুতের নামে মিটারে নতুন সংযোগ, পুণ: সংযোগ, মিটার পরিবর্তন, বৈদ্যুতিক খুঁটি পরিবর্তন সহ নানা কাজে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অন লাইনের মাধ্যমে আবেদন, আবেদনের সিরিয়াল দেওয়া, ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা সহ আরো যে সকল ব্যবস্থা নিলে গ্রাহক হয়রানি কমে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবী।
স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, কম্পিউটারাইজড সেবা প্রতিষ্ঠান-ই পারে আমাদের জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে।

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year