pic_ms_iacd7_16_en.jpg

রক্ত - জীবন বাঁচায় ও মারে

User Rating:  / 9
PoorBest 

"রক্তের প্রয়োজন হলে জানা দরকার"

যখন কোন রোগীর রক্তের প্রয়োজন হয়, তখন রোগীর স্বজনদের চিন্তা অন্ত থাকে না। ব্লাড ডোনার বা রক্ত ক্রয়ের চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়ে।
২০০৭ সালের আগষ্ট বা সেপ্টেম্বর মাস। কোন এক রাত, ঘড়িতে তখন প্রায় ১১:৪৫ মিনিট। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা জানালেন প্রায় তিন/চার ব্যাগ রক্ত লাগবে আমার মায়ের। তখন হাসপাতালে আমি একা। ফার্মেসীতে যাওয়ার সময় হাসপাতালের সামনের রাস্তায় যেতে যেতে মাঝ রাস্তাতে দাঁড়িয়ে পড়ি চিন্তা করতে করতে। ভাবছিলাম আজ যদি আব্বু বেঁচে থাকতেন কিংবা আমার যদি কোন ভাই-বোন থাকতো - তবে এতো প্রেসার নিতে হতো না। সেই মূহুর্তে বড় চিন্তা ছিল রক্ত জোগাড় করা। রক্ত ক্রয় করতে হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে শুনি, রক্ত ক্রয়-বিক্রয় আইনত দন্ডনীয়। শুনে সরকার, আইন সকলকে মনে মনে খুব আকারে খিস্তি করেছিলাম।
যেভাবে-ই হোক বিপদ কেটে গিয়েছিল। তারপর নিজে ব্লাড ডোনার হয়েছি, ডোনার গ্রুপ তৈরি করেছি প্রায় পাঁচ বছর ধরে, ডোনারদের সংগঠিত করতে গড়ে তুলেছি আলোকবর্তিকা নামক সামাজিক সংস্থা।

মাস খানেক আগে আমার এক ভাতিজির রক্তের প্রয়োজনে এক ছোট ভাই ব্লাড ডোনেট করবে বলে তার সাথে গিয়েছিলাম সদর হাসপাতালে। তো টেকনিশিয়ান মিজান ভাইয়ের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে বললাম, "আমাদের এখানে কারো কি এইচআইভি পজেটিভ পেয়েছেন?"
উৎসুক চোখে তার দিকে তাকালাম, সে জ্ঞানীভাবে উত্তর দিল, "কয়েকটা পেয়েছি। একটা তো প্রায় ধরে ফেলেছিলাম।"
- কিভাবে?
- এক রোগীর লোক রক্ত কিনে নিয়ে আসছে। টেস্ট করে দেখি এইচআইভি পজেটিভ।
- তারপর...
- তারপর শুনি রেলরোডের এক দালালের মাধ্যমে কোন এক মহিলার কাছ থেকে রক্তটা কেনা। কোন মহিলার কাছ থেকে কেনা সেটা জানা দরকার ছিল। মোবাইল কোর্ট, আরএমওকে নিয়ে দালালকে ধরলাম। কিন্তু মহিলাকে খুঁজে পাওয়া গেল না - যে কিনা আগেও তিন-চার ব্যাগ রক্ত বিক্রয় করছে এবং টেস্ট ছাড়া হয়ত সেই রক্ত রোগীর শরীরে ঢুকানো হয়েছে।"

সাধারণত সরকারী হাসপাতালে সকল প্রকার ব্লাড টেস্ট স্বল্প খরচে করানো সম্ভব কিন্তু ক্লিনিকে অনেক সময় টেস্ট করার সুবিধা থাকে না। তখন টেস্ট ছাড়াই রক্ত ঢুকানো হয়  শরীরে। জিবনের বদলে দেওয়া নিশ্চিত মৃত্যুর গ্যারান্টি।

সাধারণত যারা নেশা করে অথবা ভাসমান জনগোষ্ঠি তারা রক্ত বিক্রয় করে। এই ভাসমান জনগোষ্ঠির উপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৬% লোক দু'য়ের অধিক ব্যক্তির সাথে যৌন সম্পর্ক রক্ষা করে চলে - যা এইচআইভি পজেটিভ হওয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

আপনার স্বজনকে ক্রয় করা রক্ত দিবেন না - তাঁর জিবনের স্বার্থে, দেশের আইন মেনে চলুন।

ডোনারের রক্ত দিলেও সকল প্রকার টেস্ট ছাড়া রক্ত দিবেন না। সরকারি হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের সেবা নিন প্রয়োজনে। চেন্জ করবেন শুধু সরকারি ব্লাড ব্যাংক হতে। নিরাপদ রক্ত জিবন দেয়, অনিরাপদ রক্তে নিশ্চিত মৃত্যু।

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year