pic_ms_iacd7_16_en.jpg

রুই-বিনে বাংলাদেশ ধ্বনি!

User Rating:  / 4
PoorBest 
গত ২২শে জানুয়ারী থেকে ৩০শে জানুয়ারী পর্যন্ত তাইওয়ানে হয়ে গেল “রুই-বিন আর্ট এ্যান্ড ক্যারেকটার এ্যাডুকেশন ক্যাম্প- ২০১৬”। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল তাইওয়ান বাংলাদেশের টিআইবি থেকে অত্র ক্যাম্পে যোগদানের জন্য ২ জন প্রতিনিধি আহব্বান করেছিলেন। অত্র আহব্বানের পরিপ্রেক্ষিতে টিআইবি প্রতিযোগিতা পদ্ধতির মাধ্যমে ইয়েস সদস্যদের মধ্যে থেকে ২জন প্রতিনিধি নির্বাচন করলেন। একজন হলেন বাগেরহাটের ইয়েস সদস্য মোঃ সুরুজ বাবু এবং অন্যজন আমি কাজী আবুসালেহ, সমাজকল্যাণ ইয়েস-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। জানুয়ারীর ২১ তারিখেই বাংলাদেশ ও টিআইবিকে প্রতিনিধিত্ব করতে আমরা ২জন পৌঁছে যাই তাইওয়ানে। সঙ্গী হয়েছেন কোরিয়ার Yonsei University সহ তাইওয়ানের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৫৫ জন প্রতিনিধি। একত্রে কাটিয়েছি ৯ দিন, তুলে ধরেছি বাংলাদেশের ইতিহাস- ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি ও টিআইবির ইয়েস এবং সিসিস্থির বিভিন্ন কার্যক্রম।
প্রকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা দেশটির চারিদিকে পর্বত আর পর্বত। প্রতিটি পর্বতের ভেতর দিয়ে রয়েছে বিশাল সু-সাজ্জিত রাস্তা যা সত্যিই মুগ্ধকর। এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল লবিতে পৌঁছাতে এক ঘন্টারও অধিক সময়ধরে একটি উড়াল সেতুর উপরে ছিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম এটাই হয়তোবা তাদের দেশের সবচেয়ে বড় উড়ালসেতু। ভুল ভেঙ্গেছিল পরেরদিন হোটেল থেকে ক্যাম্পে পৌঁছানোর সময়। পুরো দেশজুড়ে চলাচলের পথ-ই হল ৩ টি উড়াল সেতু, রাস্তাঘাট ও মাটির নিচে মেট্রো। উন্নয়ন পরিকল্পনাও সত্যিকার অর্থেই প্রশংসার দাবী রাখে।
পুরো ক্যাম্পের সবচেয়ে প্রশংশনীয় ব্যাপার ছিল সময় ব্যাবস্থাপনা ও বাচ্ছাদের খেলার মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া। প্রতিদিনের কর্ম পরিকল্পনা আগেরদিন রাতেই আমাদের কাছে পোঁছে যেত এবং সারাদিনের কার্যক্রম ঐ পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত হত। পুরো ৯ দিনের ক্যাম্পে ৫ মিনিটের জন্যও সময়ের বিশৃঙ্খলা ঘটেনি! বাচ্চাদের সাথে কাজ শুরু করার পূর্বের প্রথম ৪দিন আমাদেরই অনুশীলন করতে হয়েছে। অনুশীলনে প্রতিটি বিষয়কে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে বাচ্ছারা নতুন কিছু শিখতে পারে। প্রতিটি লেকচারের ২টি অংশ ছিল-তাত্বিক ও প্রয়োগিক, যা সত্যিই অসাধারন। প্রতিদিনের কাজ শেষে দুই ঘন্টা প্রতিফলন সময় দেওয়া হতো যেখানে সবাই মিলে ঐ দিনের কার্যক্রমের ঐটি খুজে বের করে পরেরদিনের কার্যক্রমের সংশোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হত। সত্যিই পুরো বিষয়গুলো আমাকে খুব মুদ্ধ করেছে।
শেষ কিছুদিন বাচ্ছাদের সাথে কাটানোর সুযোগ হয়েছে। পুরো ক্যাম্পের উদ্দেশ্য ছিল বাচ্চাদের ভেতরের মানুষটাকে জাগ্রত করা, বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির সাথে পরিচয় ঘটানো এবং দুর্নীতিবিরোধী মানসিকতা গড়ে তোলা। যে সকল শিশুদের নিয়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছে তাদের অধিকাংশই ছিল অসচ্ছল ও পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠী থেকে উঠে আসা। তাদের শিখিয়েছি হায়, শুভ সকাল, শুভ রাত্রি, শুভ নববর্ষ সহ বেশ কিছু অভিবাদনমূলক শব্দ। শব্দগুলো শিখে বাচ্ছারা এতটাই উৎফুল্ল ছিল যে দেখলেই বলতো ওহে কিংবা শুভ সকাল বা বিদায়! সবার মুখে শব্দগুলো এতোটাই প্রচলিত ছিল যে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের বুকেই আমি আছি! অল্প সময়ের মাঝে তাদের অন্তরে আসন গেড়ে নিতে সক্ষম হয়েছি, এমনকি তারাও আকৃষ্ট করেছে আমাকে। বিদায়বেলা সেই কোমল শিশুদের কান্না ব্যাথিত করেছে আমাকে, অশ্রুসিক্ত হয়েছে আমার দু-নয়ন! এভাবেই নিষ্ঠুর ও নিদরুনভাবে হাত নেড়ে বলেছি- বাই বাই!!
সবচেয়ে মজার বিষয়টা হলো চপষ্টিকের ব্যবহার। আমার মতো অনাড়ী লোককে দেখে তারা চপষ্টিকের পরিবর্তে চামুচ দিতে চাইলে আমি স্পষ্টত জানিয়ে দিলাম- “আমি তোমাদের সংস্কৃতি শিখতে এসেছি, সুতরাং আমাকে শিখতে দাও ”। ৩ দিনের মাঝে চপষ্টিকের সাথে বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছি, এবার ওদের হাতে করে খাওয়া শেখানোর পালা। আমিই প্রথম হাত দ্বারা খেতে শুরু করলাম, সাড়া দিলো দুই-একজন। সর্বশেষ ক্যাম্পের সবাই শিখলো হাতের ব্যবহার, তুলে নিলো চপষ্টিক, জ্বয়জ্বয়কার হলো বাংলাদেশের! এভাবেই কেটে গেলো ৯টি দিন। প্রথমে কিছুটা ভিতী কাজ করলেও সবার সাথে এতটাই মিশে গিয়েছিলাম যে, শেষে মনে হচ্ছিল ক্যাম্পটা শুধুমাএ ৯ দিনের কেনো, কেনো ৯ হাজার বছরের নয়! খুব আবেগঘন পরিবেশের মধ্যেই বলতে হলো! See you again, somewhere and someday! বিদায় তাইওয়ান!  

Add comment

Only the commentator have the whole liability for any comment.


Security code
Refresh

Posts by Year