• header_en
  • header_bn

Executive Summary on TI-UK's Report on Parliamentary oversight of Defence Corruption: bangladesh is among high risk categories

 

 

 

ওয়াচডগস: ৮২টি দেশে প্রতিরক্ষা খাতের উপর সংসদীয় নজরদারীর গুনগত মাত্রার প্রতিবেদনের নির্বাচিত অংশ

ভূমিকা

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্য তার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে প্রথমবারের মত গভর্নমেন্ট ডিফেন্স এন্টিকরাপশন ইনডেক্স (জিআই) প্রকাশ করে। পুরো প্রতিবেদনটি www.defenceindex.org এ পাওয়া যাবে। এই প্রতিবেদনে ৮২টি দেশের প্রতিরক্ষা খাতের উপর ব্যাপক ভিত্তিক গবেষণালব্ধ তথ্য ও উপাত্ত সন্নিবেশিত হয়। প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা খাতের ৫টি দুর্নীতির ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়। এগুলো হল: রাজনৈতিক, আর্থিক, জনব্যবস্থাপনা, অপারেশন্স এবং ক্রয়। উক্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ৭০ শতাংশ দেশেই দুর্নীতি প্রতিরোধের কৌশল যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ার কারণে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে দুর্নীতির ঝুঁকি রয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতের দুর্নীতি প্রতিরোধে সংসদ ও সংসদ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। ওয়াচডগস: ৮২টি দেশে প্রতিরক্ষা খাতের উপর সংসদীয় নজরদারীর গুনগত মাত্রা শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতের দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে প্রতিরোধে ৮২টি দেশের সংসদীয় সক্ষমতাকে পর্যালোচনাপূর্বক বেশ কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে যেন সেগুলোর বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতকে দুর্নীতির ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখা যায়। বর্তমান প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা দুর্নীতি প্রতিরোধে সংসদীয় সক্ষমতার উপর ১৯টি প্রশ্নকে ৭টি সুনির্দিষ্ট ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো নিম্নরূপ:

. প্রতিরক্ষা বাজেট তদারকি ও বিতর্ক

. প্রতিরক্ষা নীতি

. গোয়েন্দা

  • অস্ত্র ক্রয় সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার নজরদারী

  • প্রতিরক্ষা বাজেটের উপর সংসদীয় কমিটির নিরীক্ষা

  • ব্যয়ের অভ্যন্তরীণ অডিট

  • আনুষ্ঠানিক নজরদারীর প্রক্রিয়া

  • সংসদীয় কমিটির নজরদারী

  • প্রতিরক্ষা নীতি সংক্রান্ত বিতর্ক

  • প্রাকৃতিক সম্পদের সামরিক বাহিনী কর্তৃক শোষণ

  • অস্ত্র রফতানীর নিয়ন্ত্রণ

  • কার্যকর ও স্বাধীন নজরদারী

. প্রতিরক্ষা বাজেটের স্বচ্ছতা

  • বাজেটের স্বচ্ছতা ও বিশদ বিবরণ

  • বাজেট নীতির প্রাপ্যতা

. গোপন বাজেট

. ক্রয় পদ্ধতি ও নজরদারী

. বহির্নিরীক্ষা

  • গোপন বাজেটের শতকরা হার

  • গোপন বিষয়ের তথ্যের ব্যাপারে সংসদের অভিগম্যতা

  • অডিট প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে সংসদীয় অভিগম্যতা

  • তথ্য শ্রেণীবদ্ধকরণের পদ্ধতি

  • ক্রয় সংক্রান্ত আইন

  • ক্রয় সংক্রান্ত নজরদারী

  • ক্রয় সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ

  • কার্যকর ও স্বচ্ছ বহির্নিরীক্ষা

প্রাপ্ত ফলাফল

  • ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ৮২টি দেশের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ দেশেরই সংসদ স্ব স্ব দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্রবাহিনীর উপর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিরক্ষা নীতির উপর কার্যকর নজরদারীর ঘাটতি রয়েছে ৮৫ শতাংশ দেশের ক্ষেত্রে।

  • ৮২টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৬টি দেশের ক্ষেত্রে সংসদীয় সক্ষমতার কার্যকারিতার ইতিবাচক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

  • প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিরক্ষা নীতির নজরদারী এবং বিতর্কের ক্ষেত্রে প্রায় অর্ধেক দেশে সর্বনিম্ন মাত্রার আনুষ্ঠানিক কাঠামো রয়েছে।

  • অতি কার্যকর পদ্ধতি রয়েছে ১৫ শতাংশ কম দেশের ক্ষেত্রে।

  • এক তৃতীয়াংশ দেশের ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা বাজেট বহির্নিরীক্ষা করা হলেও সেগুলো পুরোপুরি কার্যকর নয়।

  • প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিরক্ষা বাজেট ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ দেশে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং সীমিত তথ্যের সুযোগ রয়েছে।

  • অন্যদিকে ৭৫ শতাংশ দেশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে না।

  • ৮২টি দেশের মধ্যে অর্ধেকের ক্ষেত্রেই গোয়েন্দা বাহিনীর নীতি, বাজেট এবং প্রশাসনিক ব্যাপারে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র নজরদারীর প্রমান পাওয়া যায় নি।

  • ৪০ শতাংশ দেশের ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা ক্রয়ের নজরদারী পদ্ধতি প্রমান মেলেনি কিংবা যে ক্ষেত্রে নজরদারী পদ্ধতি রয়েছে তা নিস্ক্রিয় এবং কার্যক্রম অত্যন্ত অস্পষ্ট।

  • দুই তৃতীয়াংশ দেশের ক্ষেত্রে বহির্নিরীক্ষা ব্যবস্থার কথা জানা গেলেও সেগুলোর কার্যকারিতা হয় প্রশ্নবিদ্ধ, নয় তো বহির্নিরীক্ষা আদৌই সংঘটিত হয় কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

দুর্নীতির ঝুঁকির প্রকার, সংখ্যা ও শতকরা হার:

ঝুঁকির প্রকার

দেশের সংখ্যা

শতকরা হার

প্রাপ্ত নম্বরের রেঞ্জ

সর্বনিম্ন

%

৮৩.-১০০

নিম্ন

১২

১৫%

৬৬.-৮৩.

মধ্যম

১৪

১৭%

৫০-৬৬.

উচ্চ

১৭

২১%

৩৩.-৪৯.

অতি উচ্চ

২১

২৬%

১৬.-৩৩.(বাংলাদেশ ৩২)

চরম

১৪

১৭%

-১৬.

৮২টি দেশের অবস্থান

সর্বনিম্ন ঝুঁকি সম্পন্ন দেশের তালিকা

অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য

নিম্ন ঝুঁকি সম্পন্ন দেশের তালিকা

অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া, কলাম্বিয়া,

ফ্রান্স, জাপান, পোল্যান্ড, শ্লোভাকিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইডেন, তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যম ঝুঁকি সম্পন্ন দেশের তালিকা

আর্জেন্টিনা, বসনিয়া হার্জেগোভিনা, চিলি, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক রিপাবলিক, হাঙ্গেরি, ইতালি, লাটভিয়া, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, থাইল্যান্ড, ইউক্রেন

উচ্চ ঝুঁকি সম্পন্ন দেশের তালিকা

জর্জিয়া, ঘানা, গ্রীস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইসরাইল, কাজাকাস্তান, কেনিয়া, কুয়েত, লেবানন, নেপাল, ফিলিপাইন, রাশিয়া, সার্বিয়া, তানজানিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা

অতি উচ্চ ঝুঁকি সম্পন্ন দেশের তালিকা

আফগানিস্তান, বাহরাইন, বাংলাদেশ, বেলারুশ, চীন, ইথিওপিয়া, ইরাক, জর্ডান, মালয়শিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, ওমান, ফিলিস্তিন, পাকিস্তান, রুয়ান্ডা, সিঙ্গাপুর, তিউনিশিয়া, ইউনাইটেড আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান, ভেনিজুয়েলা, জিম্বাবুয়ে

চরম ঝুঁকি সম্পন্ন দেশের তালিকা

আলজেরিয়া, এঙ্গোলা, ক্যামেরুন, আইভোরি কোস্ট, ডিআরসি, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইরান, লিবিয়া, কাতার, শ্রীলংকা, সৌদি আরব, সিরিয়া, ইয়েমেন

বর্তমান গবেষণার যৌক্তিকতা

জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একটি রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রনাধীনে থাকলে সামরিক বাহিনীর দুর্নীতির ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়। ব্যবহারিক অর্থে সংসদ ও সংসদ সদস্যগণ তখন প্রতিরক্ষা খাতের কর্মকাণ্ডে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন ও তদারকির সুযোগ লাভ করেন।

জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতের কর্মকাণ্ডে গোপনীয়তার সংস্কৃতি লালিত হলে আর্থিক ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক মানদণ্ড ক্ষুণ্ন হয়। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের এবং বিশেষত গোপন কোন বাজেটের পরিক্ষণের সুযোগ, কর্তৃত্ব এবং সক্ষমতা সংসদ ও সংসদ সদস্যের থাকা উচিত।

প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ক্রয়ে গোপনীয়তা এবং কারিগরী বিশেষজ্ঞদের সংশ্লিষ্টতা এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ক্রয়ে দুর্নীতির সুযোগ ও মাত্রা কমানোর জন্য পর্যাপ্ত সংসদীয় তদারকি নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার অপরিহার্য।

যুদ্ধে যাবার একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংসদের, সেজন্যই সশস্ত্র বাহিনী সদস্যরা কীভাবে পরিচালিত হবেন তা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদের কর্তৃত্বেই সাধিত হবে।

আর সে জন্যই প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা খাতের দুর্নীতি হ্রাসের জন্য সংসদের তিন ধরনের কার্যক্রমের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এগুলো হল:

  • প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা খাতের ক্রয়ের আইনে দুর্নীতিবিরোধী ধারা সংযোজন এবং কোন তথ্যটি গোপনীয় থাকবে তা নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে সংরক্ষিত থাকবে।

  • সংসদে খোলামেলা আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা নীতি ও ক্রয়ে স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের এটি নিশ্চিত করতে হবে যে জনস্বার্থেই প্রতিরক্ষা খাত পরিচালিত হবে ব্যক্তি স্বার্থে নয়।

  • দুর্নীতির ঝুঁকি এড়াতে কার্যকর তদারকি ও নজরদারির বিকল্প নেই। নির্বাহী কর্তৃত্বের নিয়ম বহির্ভূত কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে সংসদ ও সংসদ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

কিছু ভালো উদাহরণ

আলোচ্য প্রতিবেদনে সংসদীয় নজরদারীর কিছু ভালো উদাহরণ কেস স্টাডি আকারে উপস্থাপিত হয়েছে।

তাইওয়ানের সংসদীয় কমিটি বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব পরীক্ষা করে থাকে এবং সংসদীয় প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকের আলোচনা অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিরক্ষা বাজেট সংক্রান্ত সকল কাগজপত্রকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। ‘এ’ ক্যাটাগরীর কাগজ সংসদের সবার জন্য উন্মুক্ত, ‘বি’ ক্যাটাগরীর কাগজ সংসদীয় কমিটির জন্য, এতে কোন নিষেধাজ্ঞা থাকে না এবং ‘সি’ ক্যাটাগরীর কাগজ সংসদীয় কমিটির জন্য যেখানে কিছু বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকে।

নরওয়ে প্রতিরক্ষা বাজেটের বিশদ বিবরণ প্রকাশ করে। জাপানে একটি স্বতন্ত্র অডিট বোর্ড প্রতিরক্ষা ব্যয়ের নিরীক্ষা করে থাকে এবং তাদের পর্যবেক্ষণ সম্বলিত প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপিত হয়। ফিলিপাইনের সিনেট সদস্যদের প্রতিরক্ষা নীতির ব্যাপারে নজরদারীর জন্য পর্যাপ্ত ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। জার্মানিতে বাজেট কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে ‘বিশ্বস্ত কমিটি সদস্য’ নামে ভিন্ন এক কমিটি আছে যারা প্রতিরক্ষা বাজেটের গোপন ব্যয় নির্বাহের ব্যাপারে সম্মত বা অসম্মত হতে পারে। ব্রাজিলে গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম পরিবীক্ষণের জন্য আলাদা বিধির প্রচলন রয়েছে। ক্রোয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম সংসদে উপস্থাপন করা হয়। যু্‌ক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত বিষয় নিরীক্ষার জন্য যথেষ্ট ক্ষমতা সম্পন্ন।

করণীয়

প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপর সংসদীয় নজরদারীর কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্য দুটো কৌশলের উপর গুরুত্বারোপ করেছে। এর প্রথমটি হল প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি পরামর্শক গ্রুপ যেখানে সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞরা ছাড়াও সুশীল সমাজ, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা এবং বিষয় বিশেষজ্ঞ বা শিক্ষকরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

দ্বিতীয় কৌশলটি হল সরকারের নির্দেশে অডিটর জেনারেলের নেতৃত্বে গঠিত একটি নিরপেক্ষ রিপোর্টিং সংস্থা যারা প্রতিরক্ষা বাজেটের অপব্যবহার বা অপচয় সংক্রান্ত তথ্য সংসদ সদস্য এবং জনগণের কাছ থেকে সংগ্রহ করবে। তা নিয়ে তদন্ত করে তদন্তের ফল বার্ষিকভাবে সংসদের কাছে উপস্থাপন করবে। উক্ত সংস্থা প্রাপ্ত তথ্যের যথার্থতা অনুসন্ধান করে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংসদের কাছে প্রতি বছর উপস্থাপন করবেন।

সুপারিশ

প্রতিবেদনে সংসদ, নির্বাহী বিভাগ, অডিট অফিস এবং সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের জন্য ১৫ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলো হল:

সংসদ

  • সর্বদলীয় প্রতিরক্ষা কমিটি প্রতিষ্ঠা করে সরকার ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের উক্ত কমিটির বৈঠকে উপস্থিত করে তাদেরকে প্রমান দাখিলের জন্য দৃঢ়তার সাথে দাবী তোলা।

  • প্রতিরক্ষা বাজেটের গোপনীয় ব্যয় এবং গোয়েন্দা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনার জন্য সীমিত সংসদীয় কমিটি গঠন করা।

  • প্রতিরক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে সরকারের সাথে লবিং করা।

  • প্রতিরক্ষা বাজেটে দুর্নীতির ঝুঁকি এড়ানোর জন্য কারিগরী বিশেষজ্ঞ নিয়োগের জন্য বাজেট সহায়তা প্রদান করা।

নির্বাহী বিভাগ

  • সংসদ সদস্যরা যেন গোপন বাজেট ও গোয়েন্দা বিষয়সহ প্রতিরক্ষার সকল বিষয়ে নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্য বৃদ্ধি ও অর্থ বরাদ্দ করা।

  • প্রতিরক্ষা বাজেট সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য এবং যাবতীয় কাগজপত্র সংসদকে প্রদান করা। সংসদ থেকে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর ও তথ্য সময়মত প্রদান করা।

  • সংসদীয় প্রতিরক্ষা কমিটিকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা প্রদান যেন তারা প্রতিরক্ষা বাজেট নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনে ভেটো প্রদান করতে পারে। এই ক্ষমতা গোপন বাজেট এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় স্থগিত করা পর্যন্ত সমপ্রসারিত করা প্রয়োজন।

  • প্রতিরক্ষা তথ্যের শ্রেণীবদ্ধতা ও গোপনীয়তা সুনির্দিষ্টকরণ আইন চালু করা।

  • প্রতিরক্ষা ব্যয় নিরীক্ষার জন্য স্বতন্ত্র স্বাধীন অডিট অফিস প্রতিষ্ঠা করা এবং এর প্রতিবেদন জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা।

অডিট অফিস

  • সংসদ সদস্য ও জনগণের জন্য সুস্পষ্ট, স্বচ্ছ এবং বিস্তারিত অডিট প্রতিবেদন সময়মত প্রকাশ করা।

  • নিরীক্ষা পরিচালনার পূর্বে কারিগরি ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সংসদ সদস্যদের সাথে আলোচনা করা।

  • প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হয়ে অডিট অফিসের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা এবং অডিট রিপোর্ট ব্যাখ্যা করা।

সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম

 

  • প্রতিরক্ষা বিষয়াদি যেমন: প্রতিরক্ষা বাজেট, গোপন বাজেট এবং গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মকাণ্ড পরীক্ষা নিরীক্ষার লক্ষ্যে একটি কার্যকর আইন প্রণয়নের জন্য সরকারের সাথে এডভোকেসি করা।

  • প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং এই খাতের নজরদারীর উন্নয়নে কোন সংসদ সদস্য সহায়তা চাইলে তা প্রদান করা।

  • প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং সংসদের দুর্বল নজরদারীর সম্পর্কে জন বিতর্ক এবং আলোচনার সূত্রপাত করা।

উপসংহার

বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা খাতের দুর্নীতি এখন ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। প্রতিরক্ষা ব্যয়ের কার্যকর নিরীক্ষা না হওয়ায় সংসদ ও সংসদ সদস্যরা জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের যথাযথ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। নাগরিকদের সার্বজনীন কল্যাণের জন্য প্রতিরক্ষা খাতের উপর সংসদীয় নজরদারীর দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটানোর সুযোগ বর্তমানে উপস্থিত হয়েছে।