• header_en
  • header_bn

বাংলাদেশে সুশাসনের সমস্যা উত্তরণের উপায়: একাদশ খন্ড

জাতীয় সংসদ জাতীয় শুদ্ধাচারব্যবস্থার মৌলিক স্তম্ভগুলোর অন্যতম। সংসদের মূল কাজ আইন প্রণয়ন, জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৫ (১) ধারায় সুনির্দিষ্ট বিধান সাপেক্ষে সংসদকে প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-২০৩০’-এ সব স্তরে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানের বিকাশ এবং সংবেদনশীল (তৎপর), অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে (লক্ষ্য ১৬.৬ ও ১৬.৭)। ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলপত্র ২০১২’-এ সংসদে আইন প্রণয়ন ও সরকারের কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহতকরণের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন এবং কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে জাতীয় উন্নয়নে সংসদ সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক চর্চা অনুযায়ী বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ দেশের শাসনব্যবস্থায় সন্নিবেশ করার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারবদ্ধ। 
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় দলীয় সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। এই নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করলেও প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব এবং সর্বোপরি নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক অবস্থানের কারণে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৮৯ শতাংশ আসন) নিয়ে সরকার গঠন করে। দশম সংসদের মতোই এই সংসদেও নির্বাচনকালে মহাজোটের একটি দল নিয়মরক্ষার বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়।
এখানে ক্লিক করুন।